৩০/২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৩৪ - আদম ও মূসার তাকদীরবিষয়ক বিতর্ক
আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ)-এর পারস্পরিক বিতর্ক
আদম ও মূসার বিতর্ক: তাকদীর সম্পর্কে হাদিসের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৩৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৩৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى فَقَالَ مُوسَى يَا آدَمُ أَنْتَ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ أَغْوَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ . قَالَ فَقَالَ آدَمُ وَأَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِكَلاَمِهِ أَتَلُومُنِي عَلَى عَمَلٍ عَمِلْتُهُ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَىَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ قَالَ فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَجُنْدَبٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنِ الأَعْمَشِ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُ أَصْحَابِ الأَعْمَشِ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (রূহ জগতে) আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হন। মূসা (আঃ) আদম (আঃ)-কে বলেনঃ আপনি তো সেই আদম, যাঁকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ হাতে বানিয়েছেন এবং আপনার মধ্যে তাঁর রূহ সঞ্চার করেছেন। আর আপনিই মানবজাতির বিপথগামী ও তাদেরকে জান্নাত হতে বহিষ্কারের কারণ হলেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারপর আদম (আঃ) বললেনঃ আপনিই তো মূসা, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে কথা বলার জন্য আপনাকে মনোনীত করেছেন। আপনি এরূপ একটি কাজের জন্য আমাকে অভিযুক্ত করছেন, যা করার সিদ্ধান্তকে আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির পূর্বেই আমার জন্য লিখে রেখেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারপর সেই বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বিজয়ী হন।
আবূ ঈসা বলেন, উমর ও জুনদাব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং সুলাইমান আত-তাইমী-আমাশের সূত্রে গারীব। আর আমাশের কিছু শিষ্য-আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এই সূত্রে একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর কিছু বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আদম আলাইহিস সালাম ও মূসা আলাইহিস সালামের একটি কথোপকথন বর্ণিত হয়েছে। মূসা আলাইহিস সালাম আদম আলাইহিস সালামকে এমন ঘটনার জন্য প্রশ্ন করেন, যার ফলে মানুষ জান্নাত থেকে বের হয়েছে। আদম আলাইহিস সালাম জবাবে বলেন, আল্লাহ মূসাকে কথা বলার মর্যাদা দিয়েছেন, অথচ তিনি এমন বিষয়ে তাকে দোষ দিচ্ছেন, যা আসমান ও জমিন সৃষ্টির আগেই তার জন্য লিখে রাখা হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এই যুক্তিতে আদম আলাইহিস সালাম মূসা আলাইহিস সালামের উপর বিজয়ী হন। হাদিসের বক্তব্য তাকদীরের পূর্বলিখিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে। তবে এটি মানুষের প্রতিটি ভুলের জন্য দায় এড়ানোর সাধারণ অজুহাত বানানোর কথা বলে না; মূল বর্ণনা নির্দিষ্ট এই বিতর্ক ও ঘটনার মধ্যেই সীমিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর তাকদীর আসমান ও জমিন সৃষ্টির আগেই লিখিত ছিল।
- আদম ও মূসা আলাইহিমাস সালামের কথোপকথনে তাকদীরের বাস্তবতা উঠে এসেছে।
- হাদিসের নির্দিষ্ট ঘটনাকে সব ভুলের সাধারণ অজুহাত বানানো উচিত নয়।
- নবীদের মর্যাদা ও তাদের কথোপকথন সম্মানের সঙ্গে বুঝতে হবে।
