৩১/৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৬৮ - অত্যাচারীকে প্রতিহত করার দায়িত্ব
অন্যায় কাজ প্রতিরোধ না করা হলে আযাব অবতীর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে
অত্যাচারীকে প্রতিহত করা: অন্যায় প্রতিরোধের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৬৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৬৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، أَنَّهُ قَالَ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الآيَةَ : ﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ) وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ مِنْهُ».حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ، وَأُمِّ سَلَمَةَ وَالنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَحُذَيْفَةَ . وَهَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا رَوَى غَيْرُ، وَاحِدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، نَحْوَ حَدِيثِ يَزِيدَ وَرَفَعَهُ بَعْضُهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ، وَأَوْقَفَهُ، بَعْضُهُمْ .
আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হে লোকসকল! তোমরা তো অবশ্যই এই আয়াত তিলাওয়াত করে থাক:“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিজেদেরই কর্তব্য তোমাদেরকে সংশোধন করা। যদি তোমরা সৎপথে থাক তাহলে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তারা তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না” (সূরা: মাইদা -১০৫)।অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছিঃ মানুষ যদি কোন অত্যাচারীকে অত্যাচারে লিপ্ত দেখেও তার দুহাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করে তাহলে আল্লাহ্ তা’আলা অতি শীঘ্রই তাদের সকলকে তাঁর ব্যাপক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত করবেন।
উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস মুহাম্মদ ইবনু বাশশার-ইয়াযীদ ইবনু হারুন হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, আইশা, উম্মু সালামা, নু’মান ইবনু বাশীর, আব্দুল্লাহ ইবনু উমর ও হুযাইফা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ্। ইসমাঈলের সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী ইয়াযীদ হতে বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এটি ইসমাঈল হতে কেউ মারফু হিসাবে আবার কেউ মাওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) একটি আয়াতের ভুল বোঝাবুঝি দূর করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ এই আয়াত পড়ে যে নিজের সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা শুনেছেন: মানুষ যদি অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখে এবং তার হাত ধরে তাকে প্রতিহত না করে, তাহলে আল্লাহর ব্যাপক শাস্তি আসার আশঙ্কা থাকে। এখানে শিক্ষা হলো, নিজের ভালো থাকা মানে সমাজের অন্যায় দেখেও চুপ থাকা নয়। জুলুম দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী বাধা দেওয়া দায়িত্ব। এই হাদিস ব্যক্তি সংশোধন ও সমাজ সংশোধন—দুই দিকেই ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অত্যাচার দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ করতে হবে।
- নিজের সংশোধন সমাজের অন্যায় থেকে চুপ থাকার অজুহাত নয়।
- জুলুম ছড়ালে তার ক্ষতি সমাজের ওপরও আসতে পারে।
