২/৫০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৭ - জামাআত ছাড়ার কঠোর সতর্কতা
আযান শুনে যে ব্যক্তি তাতে সাড়া না দেয় (জামাতে উপস্থিত না হয়)
জামাআতের নামাজ না পড়ার সতর্কতা: কঠোর ভাষায় নামাজের গুরুত্ব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৭
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَتِي أَنْ يَجْمَعُوا حُزَمَ الْحَطَبِ ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ ثُمَّ أُحَرِّقَ عَلَى أَقْوَامٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ " .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَمُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُمْ قَالُوا مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يُجِبْ فَلاَ صَلاَةَ لَهُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هَذَا عَلَى التَّغْلِيظِ وَالتَّشْدِيدِ وَلاَ رُخْصَةَ لأَحَدٍ فِي تَرْكِ الْجَمَاعَةِ إِلاَّ مِنْ عُذْرٍ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আমার ইচ্ছা হয়, আমি আমার যুবকদের কাঠের স্তূপ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেই, অতঃপর নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেই এবং ইকামত বলা হবে (নামাজ শুরু হয়ে যাবে), অতঃপর যেসব লোক নামাজে উপস্থিত হয়নি তাদের (ঘরে) আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেই।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসঊদ, আবূ দারদা, ইবনু ‘আব্বাস, মু’আয ইবনু আনাস ও জাবির (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী (ﷺ)-এর বহু সংখ্যক সাহাবী হতে বর্ণিত আছে, তাঁরা বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শুনার পরও জামা’আতে উপস্থিত হয়নি তার কোন নামাজ নেই। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জামা’আতের গুরুত্ব বুঝাতে এবং জামা’আতে অনুপস্থিত ব্যক্তিকে ভর্ৎসনা করার জন্য এরূপ বলেছেন। কোন উপযুক্ত কারণ ছাড়া কারো পক্ষে জামা’আতে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি নাই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তাঁর ইচ্ছা হয় যুবকদের কাঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেন, তারপর নামাজের ইকামত দেওয়া হলে যারা নামাজে উপস্থিত হয়নি, তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। এটি খুব কঠোর সতর্কতার ভাষা। বর্ণনার শেষে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, কিছু আলেম এটি কঠোর তাগিদ হিসেবে বুঝেছেন এবং ওজর ছাড়া জামাআত ছাড়ার ছাড় নেই বলেছেন। তাই এই হাদিসকে শান্তভাবে বুঝতে হবে। মূল শিক্ষা হলো, জামাআতের নামাজকে হালকা মনে করা ঠিক নয়। আজান শোনা, ইকামত হওয়া এবং মুসলিমদের মসজিদে জড়ো হওয়া—সবই নামাজের গুরুত্ব দেখায়। ওজর ছাড়া বারবার জামাআত ছেড়ে দেওয়া আত্মপরীক্ষার বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাআতের নামাজকে হালকা মনে করা উচিত নয়।
- হাদিসে কঠোর ভাষা এসেছে নামাজের গুরুত্ব বোঝাতে।
- ওজর থাকলে বিষয়টি আলাদা হতে পারে।
- আজান শুনে নামাজের ডাকে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করা দরকার।
