২/৫০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৮ - জুমুআ ও জামাআত অবহেলার ভয়
আযান শুনে যে ব্যক্তি তাতে সাড়া না দেয় (জামাতে উপস্থিত না হয়)
জুমুআ ও জামাআত অবহেলা: রোজা-নামাজ থাকলেও সতর্কতার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৮
قَالَ مُجَاهِدٌ وَسُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ رَجُلٍ، يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ لاَ يَشْهَدُ جُمُعَةً وَلاَ جَمَاعَةً قَالَ هُوَ فِي النَّارِ . قَالَ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَنَّادٌ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ . قَالَ وَمَعْنَى الْحَدِيثِ أَنْ لاَ يَشْهَدَ الْجَمَاعَةَ وَالْجُمُعَةَ رَغْبَةً عَنْهَا وَاسْتِخْفَافًا بِحَقِّهَا وَتَهَاوُنًا بِهَا .
মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল, সে দিনভর রোজা রাখে এবং রাতভর নামাজ আদায় করে, কিন্তু জুমু‘আ ও জামা‘আতে উপস্থিত হয় না। তিনি বললেন, সে জাহান্নামী।
ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হান্নাদ মুহারেবী হতে তিনি লাইস হতে তিনি মুজাহিদ হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, যে দিনে রোজা রাখে এবং রাতে নামাজ পড়ে, কিন্তু জুমুআ ও জামাআতে উপস্থিত হয় না। তিনি বলেন, সে জাহান্নামী। তবে বর্ণনার শেষে ইমাম তিরমিযী অর্থ পরিষ্কার করেছেন—এ কথা তার জন্য, যে জুমুআ ও জামাআত থেকে বিমুখ হয়ে, তার হক হালকা মনে করে এবং অবহেলা করে উপস্থিত হয় না। তাই হাদিসটি বুঝতে এই শর্তটি খুব জরুরি। মূল শিক্ষা হলো, ব্যক্তিগত নফল ইবাদত করলেও ফরজ ও সামষ্টিক ইবাদতের অধিকার অবহেলা করা যায় না। জুমুআ ও জামাআত মুসলিম জীবনে গুরুত্বের জায়গা রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল রোজা ও রাতের নামাজ থাকলেও জুমুআ-জামাআত অবহেলা করা ঠিক নয়।
- বর্ণনার কঠোর সতর্কতা অবহেলা ও হালকা মনে করার সঙ্গে যুক্ত।
- ফরজ ও সামষ্টিক ইবাদতকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
- নিজের আমল ভালো মনে করলেও শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ ডাকে সাড়া দিতে হবে।
