৩১/২১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৮৫ - পাপাচার ছড়ালে বিপর্যয়ের সতর্কতা
ভূমিধস প্রসঙ্গে
পাপাচার ছড়িয়ে পড়লে বিপর্যয়ের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৮৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৮৫
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا صَيْفِيُّ بْنُ رِبْعِيٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَكُونُ فِي آخِرِ هَذِهِ الأُمَّةِ خَسْفٌ وَمَسْخٌ وَقَذْفٌ» . قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ «نَعَمْ إِذَا ظَهَرَ الْخَبَثُ» . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ تَكَلَّمَ فِيهِ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এই উম্মাতের শেষ পর্যায়ে ভূমিধস, শারীরিক অবয়ব বিকৃতি ও পাথর বর্ষণের শাস্তি নিপতিত হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের মাঝে সৎলোক বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কি আমাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন ঘৃণ্য পাপাচারের প্রকাশ ও ব্যাপক প্রসার ঘটবে।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আইশা (রাঃ)এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার আল-উমারীর স্মৃতিশক্তি দুর্বল বলে সমালোচনা করেছেন (অবশ্য তার ছোট ভাই উবাইদুল্লাহ একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শেষ যুগের একটি ভয়াবহ সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই উম্মতের শেষ পর্যায়ে ভূমিধস, শারীরিক অবয়ব বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের শাস্তি আসবে। আয়িশা (রাঃ) জানতে চাইলেন, সৎলোক থাকা অবস্থায়ও কি ধ্বংস হবে? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন ঘৃণ্য পাপাচার প্রকাশ পাবে। হাদিসটির শিক্ষা হলো, সমাজে পাপ প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়লে তার ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত থাকে না। তাই নিজের আমল ঠিক রাখা যেমন দরকার, তেমনি খারাপ কাজকে সাধারণ বিষয় মনে না করাও দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রকাশ্য পাপাচার সমাজের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
- সৎলোক থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিক অবনতি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- পাপকে স্বাভাবিক মনে করা ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
- নিজের ও সমাজের নৈতিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখা দরকার।
