৩১/২৩. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৮৭ - ইয়াজুজ-মাজুজ ও পাপাচারের সতর্কতা

ইয়াজুজ ও মাজুজের আত্মপ্রকাশ

ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর ও পাপাচার ছড়ানোর হাদিস

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৮৭

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ حَبِيبَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، قَالَتِ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ نَوْمٍ مُحْمَرًّا وَجْهُهُ وَهُوَ يَقُولُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ يُرَدِّدُهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ " وَعَقَدَ عَشْرًا. قَالَتْ زَيْنَبُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَنُهْلَكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ " نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ جَوَّدَ سُفْيَانُ هَذَا الْحَدِيثَ. هَكَذَا رَوَى الْحُمَيْدِيُّ وَعَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْحُفَّاظِ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ نَحْوَ هَذَا. وَقَالَ الْحُمَيْدِيُّ قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ حَفِظْتُ مِنَ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَرْبَعَ نِسْوَةٍ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ حَبِيبَةَ وَهُمَا رَبِيبَتَا النَّبِيِّ ﷺ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ زَوْجَىِ النَّبِيِّ ﷺ. وَرَوَى مَعْمَرٌ وَغَيْرُهُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ حَبِيبَةَ وَقَدْ رَوَى بَعْضُ أَصْحَابِ ابْنِ عُيَيْنَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ .

যাইনাব বিনতু জাহশ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কোন একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম হতে জাগ্রত হলেন, তখন তাঁর মুখমণ্ডল রক্তিমবর্ণ ধারণ করেছিল। তিনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে লাগলেন। তা তিনবার বলার পর তিনি বললেনঃ ঘনিয়ে আসা দুর্যোগে আরবদের দুর্ভাগ্য। আজ ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ ফাঁক হয়ে গেছে। এই বলে তিনি তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলের সাহায্যে দশ সংখ্যার বৃত্ত করে ইঙ্গিত করেন। যাইনাব (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের মধ্যে সৎলোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা হবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন পাপাচারের বিস্তার ঘটবে।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীসটিকে সুফিয়ান (রহঃ) উত্তম বলে মন্তব্য করেছেন। হুমাইদী, আলী ইবনুল মাদিনী এবং আরোও অনেকে মুফ্ইয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হুমাইদী বলেন, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেছেন, আমি এ হাদীসের সনদে চারজন মহিলার নাম যুহরীর নিকট হতে মুখস্থ করেছি। যাইনাব বিনতু আবূ সালামা ও হাবীবা দুজনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পত্নীকন্যা (তাদের পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত) ছিলেন। উম্মু হাবীবা ও যাইনাব বিনতি জাহশ (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁরা দুজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী ছিলেন। এ হাদীসটি যুহরীর সূত্রে মা’মার আরোও অনেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তারা সনদে হাবীবার কথা উল্লেখ করেননি। এই হাদীসটি ইবনু উয়াইনার কোন কোন শিষ্য ইবনু উয়াইনার সূত্রে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তারা সনদে উম্মু হাবীবা (রাঃ) নাম উল্লেখ করেননি।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৮৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর এক রাতে ঘুম থেকে জেগে ওঠার ঘটনা এসেছে। তাঁর মুখমণ্ডল রক্তিম ছিল এবং তিনি তিনবার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললেন। এরপর তিনি জানান, ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর অল্প পরিমাণ খুলে গেছে। যাইনব (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, সৎলোক থাকা অবস্থায়ও কি ধ্বংস হবে? নবীজি বললেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার বেড়ে যাবে। এই হাদিসে দুটি বিষয় স্পষ্ট: ইয়াজুজ-মাজুজ শেষ সময়ের বড় আলামত, আর পাপাচার ব্যাপক হলে সমাজের ওপর বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। তাই ঈমান, তওবা ও সতর্ক জীবন জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইয়াজুজ-মাজুজ কেয়ামতের আলামতের সঙ্গে জড়িত বড় বিষয়।
  • পাপাচার বেড়ে গেলে সমাজের জন্য বিপদ আসতে পারে।
  • ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা বিপদের সময় ঈমানের আশ্রয় স্মরণ করায়।
  • সৎ থাকা দরকার, তবে সমাজের অবস্থা নিয়েও চিন্তা করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন