৩২/৭. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২২৮০ - স্বপ্নের ধরন, নামাজ ও ব্যাখ্যা

পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় স্বপ্ন প্রসঙ্গে

স্বপ্নের তিন প্রকার ও স্বপ্ন দেখার পর করণীয়

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২২৮০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ السَّلِيمِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏"‏ الرُّؤْيَا ثَلاَثٌ فَرُؤْيَا حَقٌّ وَرُؤْيَا يُحَدِّثُ بِهَا الرَّجُلُ نَفْسَهُ وَرُؤْيَا تَحْزِينٌ مِنَ الشَّيْطَانِ فَمَنْ رَأَى مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ يَقُولُ «يُعْجِبُنِي الْقَيْدُ وَأَكْرَهُ الْغُلَّ الْقَيْدُ ثَبَاتٌ فِي الدِّينِ ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ يَقُولُ «مَنْ رَآنِي فَإِنِّي أَنَا هُوَ فَإِنَّهُ لَيْسَ لِلشَّيْطَانِ أَنْ يَتَمَثَّلَ بِي ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ يَقُولُ ‏"‏ لاَ تُقَصُّ الرُّؤْيَا إِلاَّ عَلَى عَالِمٍ أَوْ نَاصِحٍ».وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَأَبِي بَكْرَةَ وَأُمِّ الْعَلاَءِ وَابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ وَأَبِي مُوسَى وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ স্বপ্ন তিন প্রকারঃ(১) সত্য স্বপ্ন,(২) বান্দার মনের চিন্তা-ভাবনা (যা চিন্তা করে তাই স্বপ্নে দেখে) ও(৩) শয়তানের পক্ষ হতে ভীতি প্রদর্শনমূলক কিছু।অতএব, কেউ যদি অপছন্দনীয় কোন কিছু স্বপ্নে দেখে তাহলে সে যেন ঘুম হতে জেগে নামাজ আদায় করে। আর তিনি বলতেন, স্বপ্নে (পায়ে) শৃঙ্খল দেখা আমার পছন্দনীয় এবং (গলায়) শৃঙ্খল দেখা অপছন্দনীয়। (পায়ে) শৃঙ্খলের ভাবার্থ হচ্ছে দ্বীনের উপর সুদৃঢ় থাকার ইঙ্গিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলতেনঃ যে আমাকে স্বপ্নে দেখলো তা সত্যিই আমি। কেননা, শয়তান আমার রূপ (সাদৃশ্য) ধারণ করতে পারে না। তিনি আরো বলতেনঃ জ্ঞানী ব্যক্তি অথবা শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি ব্যতীত আর কোন ব্যক্তির কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ করবে না।

আবূ ঈসা বলেন, আনাস, আবূ বাকরা, উম্মুল আলা, ইবনু উমার, আইশা, আবূ মূসা, জাবির, আবূ সাঈদ, ইবনু আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্‌।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২২৮০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো স্বপ্নের আদব। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, স্বপ্ন তিন প্রকার: সত্য স্বপ্ন, মানুষের মনের চিন্তার স্বপ্ন এবং শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো স্বপ্ন। কেউ অপছন্দনীয় কিছু দেখলে জেগে নামাজ আদায় করবে। তিনি পায়ের শৃঙ্খল দেখা পছন্দ করতেন এবং গলার শৃঙ্খল দেখা অপছন্দ করতেন; পায়ের শৃঙ্খলকে দ্বীনের উপর দৃঢ় থাকার ইঙ্গিত বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, যে তাঁকে স্বপ্নে দেখে, সে তাঁকেই দেখে; শয়তান তাঁর রূপ নিতে পারে না। আর স্বপ্ন জ্ঞানী বা শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি ছাড়া অন্যের কাছে বলা উচিত নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্বপ্ন তিন ধরনের হতে পারে; সব স্বপ্ন এক নয়।
  • অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে জেগে নামাজ পড়ার নির্দেশ এসেছে।
  • শয়তান রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর রূপ ধারণ করতে পারে না।
  • স্বপ্ন জ্ঞানী বা শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির কাছেই বলা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন