৩৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৩৪৭ - অল্প রিজিক, ইবাদত ও ধৈর্য
প্রয়োজনের ন্যূনতম পরিমাণে সন্তুষ্ট থাকা এবং ধৈর্য ধারণ করা
অল্প রিজিকে ধৈর্য, মনোযোগী নামাজ ও আল্লাহর স্মরণ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৩৪৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৩৪৭
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " إِنَّ أَغْبَطَ أَوْلِيَائِي عِنْدِي لَمُؤْمِنٌ خَفِيفُ الْحَاذِ ذُو حَظٍّ مِنَ الصَّلاَةِ أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَأَطَاعَهُ فِي السِّرِّ وَكَانَ غَامِضًا فِي النَّاسِ لاَ يُشَارُ إِلَيْهِ بِالأَصَابِعِ وَكَانَ رِزْقُهُ كَفَافًا فَصَبَرَ عَلَى ذَلِكَ " . ثُمَّ نَفَضَ بِيَدِهِ فَقَالَ " عُجِّلَتْ مَنِيَّتُهُ قَلَّتْ بَوَاكِيهِ قَلَّ تُرَاثُهُ " .وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " عَرَضَ عَلَىَّ رَبِّي لِيَجْعَلَ لِي بَطْحَاءَ مَكَّةَ ذَهَبًا قُلْتُ لاَ يَا رَبِّ وَلَكِنْ أَشْبَعُ يَوْمًا وَأَجُوعُ يَوْمًا أَوْ قَالَ ثَلاَثًا أَوْ نَحْوَ هَذَا فَإِذَا جُعْتُ تَضَرَّعْتُ إِلَيْكَ وَذَكَرْتُكَ وَإِذَا شَبِعْتُ شَكَرْتُكَ وَحَمِدْتُكَ " .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَفِي الْبَابِ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ. وَالْقَاسِمُ هَذَا هُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَهُوَ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ وَهُوَ شَامِيٌّ ثِقَةٌ وَعَلِيُّ بْنُ يَزِيدَ ضَعِيفُ الْحَدِيثِ وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ الْمَلِكِ.
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষণীয় হল সেই মুমিন ব্যক্তি যার অবস্থা খুবই হালকা (স্বল্প সম্পদ এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যাও কম) এবং যে নামাজে মনোযোগী, সুচারুরূপে তার প্রভুর ইবাদত করে, একান্ত নিভৃতেও তাঁর অনুগত থাকে, মানুষের মাঝে অখ্যাত, তার দিকে অঙ্গুলি সংকেত করা হয় না, আর ন্যূনতম প্রয়োজন মাফিক তার রিজিক এবং তাতেই ধৈর্য ধারণকারী। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দুই হাতের ইঙ্গিতে বলেনঃ শীঘ্রই তার মৃত্যু হয়, তার জন্য ক্রন্দনকারীর সংখ্যাও কম, তার রেখে যাওয়া সম্পদও খুব সামান্য।যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫১৮৯), একই সনদসূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার রব আমার নিকট মক্কার বাতহা অর্থাৎ কংকরময় এলাকা আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত করার প্রস্তাব করেন। আমি বললাম, হে আমার রব! প্রয়োজন নেই, বরং আমি একদিন তৃপ্তির সাথে খাবো আর একদিন ক্ষুধার্ত থাকব। একই কথা তিনি তিনবার বা তদ্রূপ বললেন। যখন ক্ষুধার্ত থাকব তখন বিনীতভাবে তোমার নিকটে প্রার্থনা করব ও তোমাকেই মনে করব এবং যখন তৃপ্তির সাথে খাবো তখন তোমার শুকরিয়া আদায় করব ও তোমার প্রশংসা করব।
যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫১৯০), আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ অনুচ্ছেদে ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আল-কাসিম (রহঃ) তিনি আবদুর রহমানের পুত্র এবং উপনাম আবূ আবদির রহমান, মতান্তরে আবূ আবদিল মালিক। তিনি আবদুর রহমান ইবনু খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মু’আবিয়ার মুক্তদাস। তিনি সিরিয়ার অধিবাসী এবং বিশ্বস্ত রাবী। আর ‘আলী ইবনু ইয়াযীদ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল এবং তার উপনাম আবূ আবদিল মালিক।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৩৪৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ইবাদত ও অল্পে তুষ্টি। হাদিসের প্রথম অংশে এমন এক মুমিনের কথা বলা হয়েছে, যার সম্পদ ও পারিবারিক ভার কম, নামাজে মনোযোগ আছে, সে সুন্দরভাবে রবের ইবাদত করে এবং একান্ত অবস্থাতেও আনুগত্য বজায় রাখে। মানুষের মাঝে সে খুব পরিচিত নয়, তার রিজিক প্রয়োজনমতো, আর সে তাতে ধৈর্য ধরে। দ্বিতীয় অংশে নবী صلى الله عليه وسلم স্বর্ণের প্রস্তাবের বদলে এমন জীবন পছন্দ করেন, যেখানে একদিন তৃপ্তি আর একদিন ক্ষুধা থাকতে পারে। ক্ষুধায় তিনি বিনীত প্রার্থনা ও আল্লাহকে স্মরণ করবেন, আর তৃপ্তিতে শুকরিয়া ও প্রশংসা করবেন। এই হাদিস বাহ্যিক খ্যাতির চেয়ে আন্তরিক ইবাদতকে গুরুত্ব দেয়। সুখ ও কষ্ট—দুই অবস্থাতেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার শিক্ষা এখানে স্পষ্ট। অল্প থাকা মানেই ব্যর্থতা নয়; ধৈর্য, নামাজ, আনুগত্য ও শুকরই মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোপন ও প্রকাশ্য—দুই অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রয়োজনমতো রিজিকে ধৈর্য রাখা মুমিনের প্রশংসনীয় গুণ।
- ক্ষুধায় প্রার্থনা ও স্মরণ, আর তৃপ্তিতে শুকর ও প্রশংসা করা উচিত।
