৩৪/৬০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪০৭ - জিহ্বার সোজা পথে পুরো দেহের নিরাপত্তা
রসনা সংযত রাখা বা সংযতবাক হওয়া
জিহ্বা সোজা থাকলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও সোজা থাকে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪০৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪০৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الصَّهْبَاءِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، رَفَعَهُ قَالَ «إِذَا أَصْبَحَ ابْنُ آدَمَ فَإِنَّ الأَعْضَاءَ كُلَّهَا تُكَفِّرُ اللِّسَانَ فَتَقُولُ اتَّقِ اللَّهَ فِينَا فَإِنَّمَا نَحْنُ بِكَ فَإِنِ اسْتَقَمْتَ اسْتَقَمْنَا وَإِنِ اعْوَجَجْتَ اعْوَجَجْنَا».حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ وَقَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ وَلَمْ يَرْفَعُوهُ .حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الصَّهْبَاءِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أَحْسَبُهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ فَذَكَرَ نَحْوَهُ .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষ সকালে ঘুম হতে উঠার সময় তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনীতভাবে জিহ্বাকে বলে, তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর। আমরা তো তোমার সাথে সম্পৃক্ত। তুমি যদি সোজা পথে দৃঢ় থাক তাহলে আমরাও দৃঢ় থাকতে পারি। আর তুমি যদি বাঁকা পথে যাও তাহলে আমরাও বাঁকা পথে যেতে বাধ্য।
হান্নাদ-আবু উসামা হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু যাইদের সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকমভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এই সূত্রটি মারফূভাবে বর্ণিত হয়নি। এটি মুহাম্মাদ ইবনু মূসার রিওয়ায়াতের চাইতে অনেক বেশি সহীহ্। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমরা এই হাদীসটি শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু যাইদের সূত্রেই জেনেছি। এই হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী ইবনু যাইদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফূভাবে নয়। সালিহ ইবনু আবদুল্লাহ-হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি আবুস সাহবা হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে, তিনি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সূত্রে উক্ত হাদীসের মতোই উল্লেখ করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় মানুষের জিহ্বার প্রভাব খুব জীবন্তভাবে বোঝানো হয়েছে। সকাল হলে দেহের সব অঙ্গ যেন জিহ্বাকে বলে—আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, কারণ আমরা তোমার সঙ্গে জড়িত। জিহ্বা সোজা পথে থাকলে অন্য অঙ্গও সোজা থাকতে পারে, আর জিহ্বা বাঁকা হলে তার প্রভাব পুরো আচরণে পড়ে। কথার মাধ্যমে মানুষ সত্য বলে বা মিথ্যা বলে, শান্তি আনে বা ঝগড়া বাড়ায়, সম্মান রক্ষা করে বা অপমান করে। তাই জিহ্বা সংযম শুধু কথা কমানো নয়; কথা বলার আগে তার ফল চিন্তা করা। হাদিসটি প্রতিদিনের শুরুতেই নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়ার মতো শিক্ষা দেয়—আজ আমার কথা কারও ক্ষতি করবে কি না, আমাকে ভুল পথে নেবে কি না। মুখের একটি বাক্য অনেক কাজের দিক ঠিক বা ভুল করে দিতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিহ্বার সঠিক ব্যবহার মানুষের অন্য কাজগুলোকেও সোজা রাখতে সাহায্য করে।
- কথা বলার আগে তার প্রভাব ও পরিণতি ভাবা উচিত।
- আল্লাহভীতি জিহ্বা সংযমের মূল ভিত্তি।
