৩৪/৬০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪০৮ - জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজতে জান্নাত
রসনা সংযত রাখা বা সংযতবাক হওয়া
জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজত: জান্নাতের পথ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪০৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪০৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ يَتَكَفَّلُ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَتَكَفَّلُ لَهُ بِالْجَنَّةِ " .وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَهْلٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ .
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দুই ঠোঁটের মাঝখানের বস্তু (জিহ্বা) ও দুই পায়ের মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থানের) যামিন হতে পারে (অপব্যবহার হতে সংযত রাখবে), আমি তার জন্য জান্নাতের যামিন হবো।
আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, সাহ্ল (রাঃ) বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান সহীহ্ এবং এই সূত্রে গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি অঙ্গের হেফাজতকে জান্নাতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—জিহ্বা এবং লজ্জাস্থান। জিহ্বার অপব্যবহারে মিথ্যা, গালি, অপবাদ, কটু কথা বা মানুষের মানহানি হতে পারে। আর লজ্জাস্থানের অপব্যবহার মানুষকে যৌন পাপ ও সীমালঙ্ঘনের দিকে নেয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দুই বিষয়ের দায়িত্ব নিতে পারে, তার জন্য তিনি জান্নাতের জামিন হবেন। এখানে দায়িত্ব নেওয়া মানে শুধু মুখে প্রতিশ্রুতি নয়; বাস্তবে নিজের কথা ও যৌন আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা। হাদিসটি দেখায়, ইমানের দাবি দৈনন্দিন সংযমের সঙ্গে জড়িত। মানুষ একা থাকুক বা অন্যের সামনে, এই দুই ক্ষেত্রে সীমা রক্ষা করা জরুরি। তাই নিজের কথাবার্তা যাচাই করা এবং হারাম সম্পর্ক বা আচরণ থেকে দূরে থাকা জান্নাতমুখী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিহ্বার অপব্যবহার থেকে নিজেকে রক্ষা করা জরুরি।
- লজ্জাস্থান হেফাজত করা নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।
- এই দুই বিষয়ে সংযম রাখার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
