৩৫/৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৩১ - শিঙ্গায় ফুঁ ও আল্লাহর ওপর ভরসা
শিঙ্গার ফুৎকার প্রসঙ্গে
শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার অপেক্ষা ও হাসবুনাল্লাহ বলে তাওয়াক্কুল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪৩১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪৩১
حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ أَبُو الْعَلاَءِ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «كَيْفَ أَنْعَمُ وَصَاحِبُ الْقَرْنِ قَدِ الْتَقَمَ الْقَرْنَ وَاسْتَمَعَ الإِذْنَ مَتَى يُؤْمَرُ بِالنَّفْخِ فَيَنْفُخُ». فَكَأَنَّ ذَلِكَ ثَقُلَ عَلَى أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ لَهُمْ «قُولُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ.
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কিভাবে নিশ্চিন্তে আরাম করতে পারি, অথচ শিঙ্গাওয়ালা (ফেরেশতা ইসরাফীল (আঃ)) মুখে শিঙ্গা নিয়ে অধীর আগ্রহে কান পেতে শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়ার নির্দেশ শোনার অপেক্ষায় আছেন, কখন ফুঁ দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হবে, আর অমনি তিনি ফুঁ দিবেন। বিষয়টি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাহাবীদের নিকট অত্যন্ত ভীতিকর মনে হলো। তখন তিনি তাঁদেরকে বললেনঃ তোমরা বল যে, আমাদের জন্য আল্লাহ্ তা’আলাই যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধানকারী। আমরা আল্লাহ্ তা’আলার উপর ভরসা করলাম।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ সূত্র ছাড়াও আতিয়্যা হতে, তিনি আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এই সূত্রে হাদীসটি একইরকম বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তিনি কীভাবে নিশ্চিন্তে আরাম করবেন, যখন শিঙ্গাওয়ালা ফেরেশতা শিঙ্গা মুখে নিয়ে নির্দেশ শোনার অপেক্ষায় আছেন। নির্দেশ পেলেই তিনি তাতে ফুঁ দেবেন। কথাটি সাহাবীদের কাছে খুব ভীতিকর মনে হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাদের এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দেন, যা ভয়ের সময় আল্লাহর ওপর ভরসা প্রকাশ করে: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কত উত্তম কর্মবিধায়ক; আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। হাদিসটির মূল বিষয় কেয়ামতের শিঙ্গা, ভয় এবং তাওয়াক্কুল। এখানে ভয়কে অস্বীকার করা হয়নি; বরং ভয়ের মুহূর্তে মুমিন কী বলবে তা শেখানো হয়েছে। কেয়ামতের স্মরণ হৃদয়ে দায়িত্ববোধ তৈরি করে, আর আল্লাহর ওপর ভরসার বাক্য অন্তরকে তাঁর দিকে ফিরিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিঙ্গাওয়ালা ফেরেশতা ফুঁ দেওয়ার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন।
- কেয়ামতের কথা সাহাবীদের মনে ভয় তৈরি করেছিল।
- ভয়ের সময় আল্লাহকে যথেষ্ট মনে করে তাঁর ওপর ভরসা করতে শেখানো হয়েছে।
