৩৫/২৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৫৮ - আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করার অর্থ
আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করা
আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা: মাথা, পেট ও জীবনকে হিফাজতের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪৫৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ أَبَانَ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الصَّبَّاحِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " اسْتَحْيُوا مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ " . قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَسْتَحْيِي وَالْحَمْدُ لِلَّهِ . قَالَ " لَيْسَ ذَاكَ وَلَكِنَّ الاِسْتِحْيَاءَ مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ أَنْ تَحْفَظَ الرَّأْسَ وَمَا وَعَى وَتَحْفَظَ الْبَطْنَ وَمَا حَوَى وَتَتَذَكَّرَ الْمَوْتَ وَالْبِلَى وَمَنْ أَرَادَ الآخِرَةَ تَرَكَ زِينَةَ الدُّنْيَا فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدِ اسْتَحْيَا مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ أَبَانَ بْنِ إِسْحَاقَ عَنِ الصَّبَّاحِ بْنِ مُحَمَّدٍ .
আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ্ তা’আলাকে যথাযথভাবে লজ্জা কর। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমরা তো নিশ্চয়ই লজ্জা করি, সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা’আলার জন্য। তিনি বললেনঃ তা নয়, বরং আল্লাহ্ তা’আলাকে যথাযথভাবে লজ্জা করার অর্থ এই যে, তুমি তোমার মাথা এবং এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা সংরক্ষণ করবে এবং পেট ও এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা হিফাযত করবে, মৃত্যুকে এবং এরপর পঁচে-গলে যাবার কথা স্মরণ করবে। আর যে লোক পরকালের আশা করে, সে যেন দুনিয়াবী জাঁকজমক পরিহার করে। যে লোক এইসকল কাজ করতে পারে সে-ই আল্লাহ্কে যথাযথভাবে লজ্জা করে।
আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। আমরা এই হাদীসটি শুধুমাত্র আব্বাস ইবনু ইসহাক হতে আস-সাব্বাহ ইবনু মুহাম্মদের সূত্রেই এভাবে জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৫৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়—আল্লাহর লজ্জা। সাহাবিরা মনে করেছিলেন, সাধারণ লজ্জাবোধই যথেষ্ট। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বুঝিয়ে দেন, আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করার অর্থ আরও গভীর। মানুষকে তার মাথা এবং মাথার মধ্যে থাকা বিষয়গুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পেট এবং পেটের মধ্যে যা যায়, তাও হিফাজত করতে হবে। পাশাপাশি মৃত্যু এবং শরীর পচে যাওয়ার কথা স্মরণ করতে হবে। যে আখিরাত চায়, সে দুনিয়ার সাজসজ্জা ও চাকচিক্যের মোহ ছেড়ে দেয়। এই কাজগুলো যে করতে পারে, তাকেই আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করা ব্যক্তি বলা হয়েছে। হাদিসটি লজ্জাকে শুধু অনুভূতি হিসেবে রাখেনি; চিন্তা, দৃষ্টি, ভোগ, খাদ্য, মৃত্যু স্মরণ এবং দুনিয়ার মোহ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে প্রকৃত হায়া মানুষের ভেতর ও বাইরের কাজকে একসঙ্গে শুদ্ধ রাখার সচেতনতা তৈরি করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর লজ্জা শুধু মুখের দাবি নয়; আচরণে তার প্রমাণ দরকার।
- মাথা ও এর ভেতরের বিষয়গুলো হিফাজত করতে বলা হয়েছে।
- পেট ও এর মধ্যে যা প্রবেশ করে তা সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
- মৃত্যু স্মরণ ও দুনিয়ার সাজসজ্জার মোহ কমানো আখিরাতমুখী জীবনের অংশ।
