৩৫/৫০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫০০ - অতিথি আপ্যায়ন ও উত্তম কথা
উত্তম কথা বল অন্যথায় চুপ থাকো
অতিথি আপ্যায়ন ও ভালো কথা বলার ইসলামী আদব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৫০০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫০০
حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَنَسٍ وَأَبِي شُرَيْحٍ الْعَدَوِيِّ الْكَعْبِيِّ الْخُزَاعِيِّ وَاسْمُهُ خُوَيْلِدُ بْنُ عَمْرٍو .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ তা‘আলা ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার অতিথির অভ্যর্থনা ও আদর-যত্ন করে। আর যে লোক আল্লাহ তা‘আলা ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ। ‘আয়িশাহ, আনাস, আবূ শুরাইহ আল-কাবী (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ শুরাইহ আল-কাবী হলেন আল-আদাবী, তার নাম খুওয়াইলিদ ইবনু ‘আমর।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঈমানের সঙ্গে দুটি দৈনন্দিন আচরণকে যুক্ত করা হয়েছে। প্রথমটি হলো অতিথির অভ্যর্থনা ও আদর-যত্ন করা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, সে অতিথিকে সম্মান করবে। দ্বিতীয়টি হলো কথার নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বাসী মানুষ উত্তম কথা বলবে; ভালো কিছু বলার না থাকলে নীরব থাকবে। এখানে নীরবতা দুর্বলতা নয়, বরং ক্ষতিকর বা অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায়। অতিথি আপ্যায়ন মানুষের প্রতি সম্মান দেখায়, আর ভালো কথা সামাজিক সম্পর্ককে সুন্দর রাখে। দুই ক্ষেত্রেই আচরণের ভেতর ঈমানের প্রভাব দেখা যায়। হাদিসটি বড় কোনো আয়োজনের তালিকা দেয়নি; তাই মূল শিক্ষা হলো সামর্থ্য অনুযায়ী অতিথিকে মর্যাদা দেওয়া এবং মুখের কথা বেছে বলা। কথায় উপকার না হলে চুপ থাকা নিরাপদ ও ভদ্র পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতিথিকে সম্মান ও যত্ন করা ঈমানি আচরণের অংশ।
- উপকারী ও উত্তম কথা বলা উচিত।
- ভালো কথা না থাকলে নীরব থাকা ক্ষতিকর কথা বলার চেয়ে উত্তম।
