৩৫/৪২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৮৫ - সালাম, খাদ্যদান ও তাহাজ্জুদের আমল
সালামের প্রসার, খাদ্যদান ও গভীর রাতে নামাজ
সালাম ছড়ানো, খাদ্যদান ও রাতের নামাজের ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪৮৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪৮৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَوْفِ بْنِ أَبِي جَمِيلَةَ الأَعْرَابِيِّ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَدِينَةَ انْجَفَلَ النَّاسُ إِلَيْهِ وَقِيلَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَجِئْتُ فِي النَّاسِ لأَنْظُرَ إِلَيْهِ فَلَمَّا اسْتَبَنْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَرَفْتُ أَنَّ وَجْهَهُ لَيْسَ بِوَجْهِ كَذَّابٍ وَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ تَكَلَّمَ بِهِ أَنْ قَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلاَمَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِسَلاَمٍ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ.
আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মাদীনায় এসে পৌছলেন, মানুষ তখন দলে দলে তাঁর নিকট দৌঁড়ে গেল। বলাবলি হতে লাগলো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসেছেন। অতএব তাঁকে দেখার জন্য আমিও লোকদের সাথে উপস্থিত হলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখে বুঝতে পারলাম যে, এই চেহারা কোন মিথ্যুকের চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যে কথা বললেন তা এইঃ হে মানুষগণ! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, খাদ্য দান কর এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় কর। তাহলে নিশ্চয়ই তোমরা সহীহ-সালামতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মদিনায় পৌঁছানোর পর মানুষের সামনে প্রথম দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেন। আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর চেহারা দেখে বুঝেছিলেন, এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। এরপর তিনি যে কথা শুনলেন, তাতে তিনটি সহজ কিন্তু গভীর আমল আছে। প্রথমত, সালামের প্রসার ঘটানো—অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে শান্তি ও শুভেচ্ছার সম্পর্ক তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, খাদ্য দান করা—অন্যের প্রয়োজনের সময় খাবার দিয়ে পাশে দাঁড়ানো। তৃতীয়ত, মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করা—নীরবে আল্লাহর ইবাদতে দাঁড়ানো। হাদিসে বলা হয়েছে, এসব আমল জান্নাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রবেশের পথ। তাই সামাজিক সৌজন্য, দানশীলতা এবং গোপন ইবাদত—তিনটিকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ তিন আমল ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শান্তি গড়ে তোলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের মধ্যে সালাম ছড়িয়ে সম্পর্ক সুন্দর করা উচিত।
- খাদ্য দান মানুষের প্রয়োজন পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- রাতে মানুষ ঘুমালে নামাজ পড়া নীরব ইবাদতের পরিচয়।
- সামাজিক ভালো কাজ ও ব্যক্তিগত ইবাদত একসঙ্গে পালন করা দরকার।
