৩৭/৫. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫৮৬ - জাহান্নামের ক্ষুধা, খাবার ও হতাশা

জাহান্নামীদের খাদ্যদ্রব্যের বর্ণনা

জাহান্নামের ক্ষুধা ও খাবার: সাহায্যের ডাক যখন নিষ্ফল

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫৮৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا قُطْبَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " يُلْقَى عَلَى أَهْلِ النَّارِ الْجُوعُ فَيَعْدِلُ مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الْعَذَابِ فَيَسْتَغِيثُونَ فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ مِنْ ضَرِيعٍ لاَ يُسْمِنُ وَلاَ يُغْنِي مِنْ جُوعٍ فَيَسْتَغِيثُونَ بِالطَّعَامِ فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ ذِي غُصَّةٍ فَيَذْكُرُونَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُجِيزُونَ الْغُصَصَ فِي الدُّنْيَا بِالشَّرَابِ فَيَسْتَغِيثُونَ بِالشَّرَابِ فَيُرْفَعُ إِلَيْهِمُ الْحَمِيمُ بِكَلاَلِيبِ الْحَدِيدِ فَإِذَا دَنَتْ مِنْ وُجُوهِهِمْ شَوَتْ وُجُوهَهُمْ فَإِذَا دَخَلَتْ بُطُونَهُمْ قَطَّعَتْ مَا فِي بُطُونِهِمْ فَيَقُولُونَ ادْعُوا خَزَنَةَ جَهَنَّمَ فَيَقُولُونَ أَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا بَلَى. قَالُوا فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلاَّ فِي ضَلاَلٍ. قَالَ فَيَقُولُونَ ادْعُوا مَالِكًا فَيَقُولُونَ: (يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ) قَالَ فَيُجِيبُهُمْ: (إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ ) " .قَالَ الأَعْمَشُ نُبِّئْتُ أَنَّ بَيْنَ دُعَائِهِمْ وَبَيْنَ إِجَابَةِ مَالِكٍ إِيَّاهُمْ أَلْفَ عَامٍ. قَالَ " فَيَقُولُونَ ادْعُوا رَبَّكُمْ فَلاَ أَحَدَ خَيْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَيَقُولُونَ: (رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ * رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ ) قَالَ فَيُجِيبُهُمْ: (اخْسَؤُوا فِيهَا وَلاَ تُكَلِّمُونِ ) قَالَ فَعِنْدَ ذَلِكَ يَئِسُوا مِنْ كُلِّ خَيْرٍ وَعِنْدَ ذَلِكَ يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِيرِ وَالْحَسْرَةِ وَالْوَيْلِ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَالنَّاسُ لاَ يَرْفَعُونَ هَذَا الْحَدِيثَ. قَالَ أَبُو عِيسَى إِنَّمَا نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَوْلَهُ وَلَيْسَ بِمَرْفُوعٍ. وَقُطْبَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ هُوَ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ.

আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামীদের উপর ক্ষুধা চাপিয়ে দেয়া হবে। ফলে তারা অন্যান্য শাস্তির মতই ক্ষুধার যন্ত্রণায়ও নিপীড়িত হবে। তারা কাতর কণ্ঠে ফরিয়াদ করবে এবং কাটাযুক্ত গুল্মের খাবার দিয়ে তাদের ফরিয়াদ পূর্ণ করা হবে। এ খাবার না তাদেরকে মোটাতাজা করবে, না তাদের ক্ষুধা দূর করবে।তারা আবার খাবারের জন্য ফরিয়াদ করবে। তাদের তখন এমন খাবার দেয়া হবে যা তাদের গলায় আটকে যাবে। তারা তখন মনে করবে দুনিয়াতে পানি পান করে গলায় আটকানো খাবার বের করার কথা। সুতরাং তারা পানীয়ের জন্য ফরিয়াদ জানাবে এবং তাদেরকে লোহার কাঁটাযুক্ত গরম পানি দেয়া হবে। এটা তাদের মুখের নিকটে নেয়া মাত্র তা তাদের মুখমণ্ডল পুড়ে ফেলবে এবং যখন উহা তাদের পেটে প্রবেশ করবে তখন তা তাদের নাড়িভুঁড়ি গলিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিবে। তখন তারা (পরস্পর) বলবে, জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ককে ডাকো।সে তাদের বলবে, “তোমাদের নিকটে কি রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে আসেননি? তারা বলবে, হ্যাঁ এসেছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক বলবে, তোমরা ডাকতে থাক কিন্তু কাফিরের ডাক নিষ্ফল” (সূরাঃ মু’মিন– ৫০)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারা বলাবলি করবে, তোমরা মালিককে (জাহান্নামের প্রধান তত্ত্বাবধায়ককে) ডাকো।তারা বলবে, “হে মালিক! আপনার রব যেন আমাদের মৃত্যু ঘটান” (সূরাঃ যুখরুফ– ৭৮)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তাদের জবাব দেয়া হবে, “তোমরা এভাবেই থাকবে (মৃত্যুও আসবেনা)” (৪৩:৭৮)। আ’মাশ (রহঃ) বলেন, আমি জেনেছি যে, তাদের এ আহ্বান ও মালিকের জবাবদানের মাঝখানে এক হাজার বছর চলে যাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এরপর তারা (পরস্পর) বলবে, তোমাদের রবকে ডাকো, কেননা তোমাদের রবের চাইতে উত্তম আর কেউ নেই।তারা বলবে, “হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদের পরাজিত করেছে এবং আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়। হে আমাদের আল্লাহ! আমাদেরকে এখান হতে বের করে নিন। আমরা যদি আবার এরূপ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা যালিম” (সূরাঃ মু’মিনূন– ১০৬, ১০৭)।তিনি বলেন, তাদের জবাব দেয়া হবে, “এখানেই তোরা লাঞ্ছিত অবস্থায় থাক, আর কোন কথা বলবে না” – (সূরা আল-মু’মিনূনঃ ১০৮)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তখন হতে তারা সব ধরণের কল্যাণলাভ থেকে হতাশ হয়ে যাবে এবং এ ভয়ংকর অবস্থায় গর্দভের ন্যায় চিৎকার দিতে থাকবে।

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ রাবীগণ এ হাদিস মারফূ’রূপে বর্ণনা করেননি। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আ’মাশ হতে তিনি শিম্‌র ইবনু ‘আতিয়্যা হতে তিনি শাহর ইবনু হাওশাব হতে তিনি উম্মুদ দারদা (রাঃ) হতে তিনি আবূদ দারদা (রাঃ) হতে, এ সূত্রে হাদিসটি তাঁর উক্তি হিসেবেই আমরা জেনেছি। মূলত এটি মারফূ’ হাদিস নয়। কুত্ববাহ ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয হাদিসের ইমামগণের মতে নির্ভরযোগ্য রাবী। য’ঈফ; মিশকাত– হাঃ নং- ৫৬৮৬; তা’লীকুর রাগীব– হাঃ নং- ৪/২৩৬

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ বর্ণনায় জাহান্নামীদের ক্ষুধা, খাবার, পানীয় এবং শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক চিত্র এসেছে। প্রথমে তাদের ওপর এমন ক্ষুধা চাপানো হবে, যা অন্য শাস্তির মতোই কষ্ট দেবে। তারা খাবার চাইলে কাঁটাযুক্ত গুল্ম পাবে, যা শরীর মোটাতাজা করবে না এবং ক্ষুধাও মেটাবে না। পরে এমন খাবার দেওয়া হবে, যা গলায় আটকে যাবে। পানি চাইলে লোহার কাঁটাযুক্ত গরম পানি সামনে আনা হবে; তা মুখ পুড়িয়ে দেবে এবং পেটে গেলে নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন করবে। তারা জাহান্নামের রক্ষক, মালিক এবং শেষে আল্লাহর কাছে আবেদন করবে, কিন্তু মুক্তির জবাব পাবে না। বর্ণনার শেষে ইমাম তিরমিযী জানান, এটি আবু দারদা (রা.)-এর বক্তব্য হিসেবে বেশি পরিচিত; নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দিকে সরাসরি সম্বন্ধযুক্ত রূপটি শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জাহান্নামের খাবার ক্ষুধা মেটাবে না; বরং শাস্তির অংশ হবে।
  • গরম পানি মুখ পুড়িয়ে পেটের ভেতরের অঙ্গ ছিন্ন করবে।
  • সাহায্যের সব আবেদন ব্যর্থ হওয়ার পর তারা কল্যাণ থেকে হতাশ হবে।
  • বর্ণনাটির মারফূ রূপ সম্পর্কে ইমাম তিরমিযীর সতর্ক মন্তব্য রয়েছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন