৫৯/১০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৩২৬৭ - সৃষ্টির সূচনা
জাহান্নামের বিবরণ আর তা হতে সৃষ্ট বস্তু।
﴾غَسَقًا﴿ يُقَالُ غَسَقَتْ عَيْنُهُ وَتَغْسِقُ الجُرْحُ وَكَأَنَّ الغَسَاقَ وَالغَسِيقَ وَاحِدٌ ﴾غِسْلِينَ﴿ كُلُّ شَيْءٍ غَسَلْتَهُ فَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ فَهُوَ ﴾غِسْلِينَ﴿ فِعْلِينٌ مِنَ الغَسْلِ مِنَ الجُرْحِ وَالدَّبَرِ وَقَالَ عِكْرِمَةُ حَصَبُ جَهَنَّمَ حَطَبٌ بِالحَبَشِيَّةِ وَقَالَ غَيْرُهُ ﴾حَاصِبًا﴿ الرِّيحُ العَاصِفُ وَالحَاصِبُ مَا تَرْمِي بِهِ الرِّيحُ وَمِنْهُ حَصَبُ جَهَنَّمَ يُرْمَى بِهِ فِي جَهَنَّمَ هُمْ حَصَبُهَا وَيُقَالُ حَصَبَ فِي الْأَرْضِ ذَهَبَ وَالْحَصَبُ مُشْتَقٌّ مِنْ حَصْبَاءِ الْحِجَارَةِ ﴾صَدِيدٌ﴿ قَيْحٌ وَدَمٌ ﴾خَبَتْ﴿ طَفِئَتْ ﴾نُورُونَ﴿ تَسْتَخْرِجُونَ أَوْرَيْتُ أَوْقَدْتُ ﴾لِلْمُقْوِينَ﴿ لِلْمُسَافِرِينَ وَالْقِيُّ القَفْرُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ﴾صِرَاطِ الْجَحِيمِ﴿ سَوَاءُ الْجَحِيمِ وَوَسَطُ الْجَحِيمِ ﴾لَشَوْبًا مِنْ حَمِيمٍ﴿ يُخْلَطُ طَعَامُهُمْ وَيُسَاطُ بِالْحَمِيمِ ﴾زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ﴿ صَوْتٌ شَدِيدٌ وَصَوْتٌ ضَعِيفٌ ﴾وِرْدًا﴿ عِطَاشًا ﴾غَيًّا﴿ خُسْرَانًا وَقَالَ مُجَاهِدٌ ﴾يُسْجَرُونَ﴿ تُوقَدُ بِهِمُ النَّارُ ﴾وَنُحَاسٌ﴿ الصُّفْرُ يُصَبُّ عَلَى رُءُوسِهِمْ يُقَالُ ﴾ذُوقُوا﴿ بَاشِرُوا وَجَرِّبُوا وَلَيْسَ هَذَا مِنْ ذَوْقِ الْفَمِ ﴾مَارِجٌ﴿ خَالِصٌ مِنَ النَّارِ مَرَجَ الْأَمِيرُ رَعِيَّتَهُ إِذَا خَلَّاهُمْ يَعْدُو بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ ﴾مَرِيجٍ﴿ مُلْتَبِسٍ مَرَجَ أَمْرُ النَّاسِ اخْتَلَطَ ﴾مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ﴿ (الرحمن : ١٩) مَرَجْتَ دَابَّتَكَ تَرَكْتَهَاغَسَاقًا প্রবাহিত পুঁজের যেমন কেউ বলে, তার চোখ প্রবাহিত হয়েছে ও ঘা প্রবাহিত হচ্ছে। غَسَاقٌ আর غَسِيق একই অর্থ। غِسْلِينَ যে কোনো বস্তুকে ধৌত করার পর তা হতে যা কিছু বের হয়, তাকে غِسْلِينَ বলা হয়, এটা غَسَل শব্দ হতে فِعْلِين -এর ওজনে হয়ে থাকে। ‘ইকরিমা (রহঃ) বলেছেন, حَصَبُ جَهَنَّمَ এর অর্থ জাহান্নামের জ্বালানী। এটা হাবশীদের ভাষা। আর অন্যরা বলেছেন, حَاصِبًا অর্থ দমকা হাওয়া। আর الْحَاصِبُ অর্থ বায়ু যা ছুঁড়ে ফেলে।এ হতে হয়েছে حَصَبُ جَهَنَّمَ যার অর্থ হচ্ছে যা কিছু জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হয় আর এরাই এর জ্বালানী। الْحَصَبُ শব্দটি حَصْبَاء শব্দ হতে উৎপত্তি। যার অর্থ কংকরসমূহ। صَدِيدٌ পুঁজ ও রক্ত। خَبَتْ নিভে গেছে। تُورُونَ তোমরা আগুন বের করছ। أَوْرَيْتُ অর্থ আমি আগুন জ্বালিয়েছি। لِلْمُقْوِينَ মুসাফিরগণের উপকারার্থে। আর الْقِيُّ তরলতাহীন প্রান্তর। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, صِرَاطِ الْجَحِيمِ অর্থ জাহান্নামের দিক ও তার মধ্যস্থল।لَشَوْبًا তাদের খাদ্য অতি গরম পানির সঙ্গে মিশানো হবে। زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ কঠোর চিৎকার ও আর্তনাদ। وِرْدًا পিপাসার্ত। غَيًّا ক্ষতিগ্রস্ত। মুজাহিদ (রহঃ) বলেছেন, يُسْجَرُونَ তাদের দ্বারা আগুন জ্বালানো হবে। আর نُحَاسٌ অর্থ শীশা যা গলিয়ে তাদের মাথায় ঢেলে দেয়া হবে। বলা হয়েছে ذُوقُوا এর অর্থ স্বাদ গ্রহণ কর এবং অভিজ্ঞতা হাসিল কর। এটা কিন্তু মুখের দ্বারা স্বাদ গ্রহণ করা নয়। مَارِجٌ নির্ভেজাল অগ্নি।مَرَجَ الْأَمِيرُ رَعِيَّتَهُ আমীর তার প্রজাকে ছেড়ে দিয়েছে, কথাটি এ সময় বলা হয় যখন সে তাদেরকে ছেড়ে দেয় আর তারা একে অন্যের প্রতি শত্রুতা করতে থাকে। مَرِيجٍ মিশ্রিত। مَرَجَ أَمْرُ النَّاسِ যখন মানুষের কোনো বিষয় তালগোল পাকিয়ে যায়। আর مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ অর্থ তিনি দু’টি নদী প্রবাহিত করেছেন। مَرَجْتَ دَابَّتَكَ এ কথাটি সে সময় বলা হয়, যখন তুমি তোমার চতুষ্পদ জন্তুকে ছেড়ে দাও।"
সহীহ বুখারী : ৩২৬৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩২৬৭
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ،، قَالَ قِيلَ لأُسَامَةَ لَوْ أَتَيْتَ فُلاَنًا فَكَلَّمْتَهُ. قَالَ إِنَّكُمْ لَتَرَوْنَ أَنِّي لاَ أُكَلِّمُهُ إِلاَّ أُسْمِعُكُمْ، إِنِّي أُكُلِّمُهُ فِي السِّرِّ دُونَ أَنْ أَفْتَحَ بَابًا لاَ أَكُونُ أَوَّلَ مَنْ فَتَحَهُ، وَلاَ أَقُولُ لِرَجُلٍ أَنْ كَانَ عَلَىَّ أَمِيرًا إِنَّهُ خَيْرُ النَّاسِ بَعْدَ شَىْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.قَالُوا وَمَا سَمِعْتَهُ يَقُولُ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ «يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُهُ فِي النَّارِ، فَيَدُورُ كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِرَحَاهُ، فَيَجْتَمِعُ أَهْلُ النَّارِ عَلَيْهِ، فَيَقُولُونَ أَىْ فُلاَنُ، مَا شَأْنُكَ أَلَيْسَ كُنْتَ تَأْمُرُنَا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ قَالَ كُنْتُ آمُرُكُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَلاَ آتِيهِ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ».رَوَاهُ غُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنِ الأَعْمَشِ.
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উসামা (রাঃ)-কে বলা হল, কত ভাল হত! যদি আপনি ঐ ব্যক্তির [উসমান (রাঃ)]-এর নিকট যেতেন এবং তার সঙ্গে আলোচনা করতেন। উত্তরে তিনি বললেন, আপনারা মনে করছেন যে আমি তাঁর সঙ্গে আপনাদেরকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলব। অথচ আমি তাঁর সঙ্গে (দাঙ্গা দমনের ব্যাপারে) গোপনে আলোচনা করছি, যেন আমি একটি দ্বার খুলে না বসি। আমি দ্বার উন্মুক্তকারীর প্রথম ব্যক্তি হতে চাই না। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট হতে কিছু শুনেছি, যার পরে আমি কোন ব্যক্তিকে যিনি আমাদের আমীর নির্বাচিত হয়েছেন এ কারণে তিনি আমাদের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি এ কথা বলতে পারি না।লোকেরা তাঁকে বলল, আপনি তাঁকে কি বলতে শুনেছেন? উসামাহ (রাঃ) বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন আগুনে পুড়ে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এ সময় সে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা তার চাকা নিয়ে তার চারপাশে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামবাসীরা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে বলবে, হে অমুক ব্যক্তি! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতে আর অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতে? সে বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতাম বটে, কিন্তু আমি তা করতাম না আর আমি তোমাদেরকে অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতাম, অথচ আমিই তা করতাম।এ হাদীসটি গুনদার (রহঃ) শুবা (রহঃ) সূত্রে আ’মাশ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
