৩৮/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬০৬ - তাওহিদের স্বীকৃতি ও জান-মালের নিরাপত্তা
যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” না বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করতে আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬০৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬০৬
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا مَنَعُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষ “আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই”-এর স্বীকারোক্তি না করা পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি। তারা এটা বললে (একত্ববাদে ঈমান আনলে) তাদের রক্ত (জান) ও সম্পদ আমার থেকে নিরাপদ হবে। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা (অর্থাৎ- অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে)। আর তাদের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহ তা‘আলার দায়িত্বে।
জাবির, আবূ সা’ঈদ ও ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাওহিদের স্বীকৃতি এবং মানুষের বাহ্যিক নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। কেউ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—এই ঘোষণা দিলে তার জীবন ও সম্পদ নিরাপদ বলে গণ্য হবে। তবে ইসলামের কোনো ন্যায্য অধিকার বা প্রমাণিত অপরাধের বিচার আলাদা বিষয়। মানুষের অন্তরের সত্যতা যাচাই করা নবীজির দায়িত্ব হিসেবে এখানে বলা হয়নি; বরং তাদের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর কাছে থাকবে। ফলে বাহ্যিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে দুনিয়ার আচরণ নির্ধারিত হবে এবং গোপন বিশ্বাসের বিচার আল্লাহ করবেন। ইসলামী স্কলারদের মতে, এই হাদিস ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার অনুমতি নয়। যুদ্ধ, বিচার ও শাস্তি বৈধ কর্তৃপক্ষ ও ন্যায়বিচারের নিয়মের বিষয়। ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, সন্দেহ বা মতভেদের কারণে কারও জান-মালে আঘাত করা এই হাদিসের শিক্ষা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহিদের স্বীকৃতি মানুষের বাহ্যিক মুসলিম পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি।
- মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
- অন্তরের সত্যতা ও চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে।
- ব্যক্তিগতভাবে সহিংসতা বা বিচার করার অনুমতি এই হাদিস দেয় না।
