৩৮/৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬১৬ - জান্নাতের আমল ও জিহ্বা সংযমের শিক্ষা
নামাজের মাহাত্ম্য
জান্নাতের পথে ইবাদত, কল্যাণের দরজা ও জিহ্বা সংযম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬১৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬১৬
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الصَّنْعَانِيُّ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرٍ فَأَصْبَحْتُ يَوْمًا قَرِيبًا مِنْهُ وَنَحْنُ نَسِيرُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ . قَالَ «لَقَدْ سَأَلْتَنِي عَنْ عَظِيمٍ وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ تَعْبُدُ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ وَتَحُجُّ الْبَيْتَ». ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْخَيْرِ الصَّوْمُ جُنَّةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ وَصَلاَةُ الرَّجُلِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ " . قَالَ ثُمَّ تَلاََ: ﴾ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ ﴿ حَتَّى بَلَغَ: ﴾يَعْمَلُونَ﴿ ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ كُلِّهِ وَعَمُودِهِ وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ». قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ «رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلاَمُ وَعَمُودُهُ الصَّلاَةُ وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ». ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمَلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ " . قُلْتُ بَلَى يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ قَالَ " كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا». فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ فَقَالَ «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি কোন এক ভ্রমণে নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। একদিন যেতে যেতে আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এমন একটি কাজ সম্পর্কে আমাকে জানিয়ে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম হতে দূরে রাখবে। তিনি বললেনঃ তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। তবে সেই ব্যক্তির জন্য এ ব্যাপারটা অতি সহজ যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তা‘আলা তা সহজ করে দেন। তুমি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে, কোন কিছুকে তাঁর সাথে শরীক করবে না, নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দিবে, রামাযানের রোজা রাখবে এবং বাইতুল্লাহ্র হজ্জ করবে।তিনি আরো বললেনঃ আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে বলে দিব না? রোজা হলো ঢালস্বরূপ, দান-খয়রাত গুনাহ্সমূহ বিলীন করে দেয়, যেমনিভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং কোন ব্যক্তির মধ্যরাতের নামাজ আদায় করা।তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ “তাদের দেহ পাশ বিছানা থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং তাঁরা তাদের প্রভুকে ডাকে আশায় ও ভয়ে এবং আমি তাদেরকে যে রিয্ক দান করেছি তা থেকে তাঁরা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কি লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ।” (সূরা আস-সাজদাহ ১৬, ১৭)তিনি আবার বলেনঃ আমি কি সমস্ত কাজের মূল, স্তম্ভ ও সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, স্তম্ভ হলো নামাজ এবং সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ। তিনি আরো বললেনঃ আমি কি এসব কিছুর সার সম্পর্কে তোমাকে বলব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি তাঁর জিহ্বা ধরে বললেনঃ এটা সংযত রাখ। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহ্র নবী! আমরা যে কথা-বার্তা বলি এগুলো সম্পর্কেও কি পাকড়াও করা (জবাবদিহি) হবে? তিনি বললেনঃ হে মু‘আয! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! মানুষকে শুধুমাত্র জিহ্বার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬১৬-এর সারসংক্ষেপ
মুয়াজ ইবন জাবাল রাঃ জান্নাতে প্রবেশ ও জাহান্নাম থেকে দূরে থাকার আমল জানতে চাইলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাওহিদ, সালাত, জাকাত, রমজানের রোজা ও হজের কথা বলেন। এরপর কল্যাণের দরজা হিসেবে রোজাকে ঢাল, সদকাকে গুনাহ নেভানোর মাধ্যম এবং রাতের সালাতকে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সব কাজের মূল ইসলাম, স্তম্ভ সালাত এবং সর্বোচ্চ শিখর জিহাদ। শেষে নিজের জিহ্বা ধরে তা সংযত রাখতে বলেন। মানুষের কথাবার্তাও জবাবদিহির বিষয় এবং জিহ্বার অর্জন তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে পারে—এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। হাদিসটি ইবাদত ও চরিত্রকে একই শিক্ষায় যুক্ত করেছে। শুধু বড় আমলের তালিকা জানাই যথেষ্ট নয়; মুখ থেকে বের হওয়া কথা নিয়ন্ত্রণ করাও আখিরাতের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহিদ ও ইসলামের মৌলিক ইবাদত জান্নাতের পথের প্রধান আমল।
- রোজা ঢালের মতো এবং সদকা গুনাহ মুছে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
- সালাতকে দ্বীনের স্তম্ভ বলা হয়েছে।
- জিহ্বা সংযত রাখা এবং কথার জবাবদিহি মনে রাখা জরুরি।
