৩৮/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৪২ - হিদায়াত, নূর ও তাকদীর
এই উম্মতের অনৈক্য
হিদায়াত ও তাকদীর: আল্লাহর নূর পাওয়ার তাৎপর্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬৪২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৪২
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَلَقَ خَلْقَهُ فِي ظُلْمَةٍ فَأَلْقَى عَلَيْهِمْ مِنْ نُورِهِ فَمَنْ أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ النُّورِ اهْتَدَى وَمَنْ أَخْطَأَهُ ضَلَّ فَلِذَلِكَ أَقُولُ جَفَّ الْقَلَمُ عَلَى عِلْمِ اللَّهِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা‘আলা অন্ধকারে তাঁর মাখলুকাতের সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি এদের উপরে তাঁর নূরের আলোকপ্রভা ঢেলে দিয়েছেন। সুতরাং সেই নূরের আলোকপ্রভা যে ব্যক্তির উপর পড়েছে সে সৎপথ পেয়েছে এবং যে ব্যক্তির উপর তা পড়েনি সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এ জন্যেই আমি বলিঃ আল্লাহ তা‘আলার ইলম অনুযায়ী কলম (তাকদীরের লিখন) শুকিয়ে গেছে।
আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিদায়াত, পথভ্রষ্টতা এবং আল্লাহর ইলম অনুযায়ী তাকদীরের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানান, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি অন্ধকারে সৃষ্টি করেন, তারপর তাদের উপর তাঁর নূরের আলোকপ্রভা দেন। যাকে সেই নূর স্পর্শ করেছে, সে সৎপথ পেয়েছে; আর যে তা পায়নি, সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, আল্লাহর জ্ঞান অনুযায়ী কলম শুকিয়ে গেছে। অর্থাৎ মানুষের অবস্থা আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞানের বাইরে নয়। হাদিসটির ভাষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে হিদায়াত আল্লাহর বড় দান। তাই নিজের জ্ঞান বা শক্তির উপর গর্ব না করে আল্লাহর কাছে সৎপথ চাওয়া এবং হিদায়াতের মূল্য বোঝা দরকার। একই সঙ্গে আল্লাহর ইলম যে পূর্ণ ও নির্ভুল, সেটিও এখানে স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিদায়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক বড় অনুগ্রহ।
- আল্লাহর নূরের আলোকপ্রভা পাওয়া সৎপথ লাভের সঙ্গে যুক্ত।
- মানুষের হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞানের বাইরে নয়।
- সৎপথ পেয়ে আত্মগর্ব না করে আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করা উচিত।
