৪০/১২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৭০১ - কোমলতা ও সংযত জবাবের শিক্ষা
যিম্মীদের (অমুসলিম নাগরিকদের) সালাম দেয়া অপছন্দনীয়
কোমলতা: কটু কথার জবাবে শান্ত থাকার নববী শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৭০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৭০১
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ رَهْطًا مِنَ الْيَهُودِ دَخَلُوا عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالُوا السَّامُ عَلَيْكَ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «عَلَيْكُمْ» . فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ بَلْ عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ أَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا قَالَ «قَدْ قُلْتُ عَلَيْكُمْ» .وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ وَابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُهَنِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন একদিন একদল ইয়াহূদী নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আসসামু ‘আলাইকা (আপনার মৃত্যু হোক)। তাদের এ কথার জবাবে নবী (ﷺ) বললেনঃ আলাইকুম (তোমাদেরই তাই হোক)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আলাইকুমুস সাম ওয়াল লা‘নাত (তোমাদের উপর মৃত্যু ও অভিশাপ পতিত হোক)। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! আল্লাহ তা‘আলা সকল ব্যাপারেই কোমলতা পছন্দ করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তারা কি বলেছে আপনি কি তা শুনেননি? তিনি বললেনঃ আমিও তো বলে দিয়েছি, আলাইকুম।
আবূ বাসরা আল-গিফারী, ইবনু ‘উমার, আনাস ও আবূ ‘আবদুর রহমান আল-জুহানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৭০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, একদল ইয়াহূদী সালামের শব্দ বদলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর জন্য মৃত্যুকামনা করেছিল। তিনি তাদের কথার অর্থ বুঝেও সংক্ষিপ্তভাবে ‘আলাইকুম’ বলে জবাব দেন। আয়িশা রাঃ কঠোর ভাষায় উত্তর দিলে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে আল্লাহ সব কাজে কোমলতা পছন্দ করেন। এখানে কোমলতা মানে অন্যায়কে ঠিক বলা নয়। বরং অপমানের মুখেও নিজের ভাষা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখা। নবী صلى الله عليه وسلم তাদের কথার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন, কিন্তু সীমা ছাড়াননি। তাই ইসলামে কোমলতার গুরুত্ব বোঝার সঙ্গে সঙ্গে সংযত জবাব দেওয়ার আদবও শেখা যায়। কেউ কটু কথা বললে রাগে আরও কটু না হয়ে, সত্য ও যথেষ্ট উত্তর দেওয়াই এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কটু কথার জবাবেও ভাষা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
- অন্যায় কথার যথাযথ উত্তর দেওয়া যায়, তবে সীমা ছাড়ানো ঠিক নয়।
- আল্লাহ সব বিষয়ে কোমলতা পছন্দ করেন।
- রাগের মুহূর্তে সংক্ষিপ্ত ও সংযত জবাব দেওয়া ভালো আচরণ।
