৪০/৩৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৭৩৩ - নয়টি নিষেধ ও নবীকে অনুসরণের আহ্বান
হাতে ও পায়ে চুমু দেওয়া
নয়টি স্পষ্ট নির্দেশ: শিরক, চুরি, সুদ ও গুরুতর অন্যায় থেকে বিরত থাকা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৭৩৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৭৩৩
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلِمَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، قَالَ قَالَ يَهُودِيٌّ لِصَاحِبِهِ اذْهَبْ بِنَا إِلَى هَذَا النَّبِيِّ . فَقَالَ صَاحِبُهُ لاَ تَقُلْ نَبِيٌّ إِنَّهُ لَوْ سَمِعَكَ كَانَ لَهُ أَرْبَعَةُ أَعْيُنٍ . فَأَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَسَأَلاَهُ عَنْ تِسْعِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ .فَقَالَ لَهُمْ «لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلاَ تَسْرِقُوا وَلاَ تَزْنُوا وَلاَ تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ تَمْشُوا بِبَرِيءٍ إِلَى ذِي سُلْطَانٍ لِيَقْتُلَهُ وَلاَ تَسْحَرُوا وَلاَ تَأْكُلُوا الرِّبَا وَلاَ تَقْذِفُوا مُحْصَنَةً وَلاَ تُوَلُّوا الْفِرَارَ يَوْمَ الزَّحْفِ وَعَلَيْكُمْ خَاصَّةً الْيَهُودَ أَنْ لاَ تَعْتَدُوا فِي السَّبْتِ " . قَالَ فَقَبَّلُوا يَدَهُ وَرِجْلَهُ فَقَالاَ نَشْهَدُ أَنَّكَ نَبِيٌّ . قَالَ «فَمَا يَمْنَعُكُمْ أَنْ تَتَّبِعُونِي " . قَالُوا إِنَّ دَاوُدَ دَعَا رَبَّهُ أَنْ لاَ يَزَالَ فِي ذُرِّيَّتِهِ نَبِيٌّ وَإِنَّا نَخَافُ إِنْ تَبِعْنَاكَ أَنْ تَقْتُلَنَا الْيَهُودُ .وَفِي الْبَابِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ وَابْنِ عُمَرَ وَكَعْبِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক ইয়াহূদী তার এক সঙ্গীকে বলল, আস আমরা এই নবীর নিকট যাই। তার বন্ধু বলল, নবী বলো না, তিনি যদি শুনে ফেলেন তাহলে খুশীতে তাঁর চার চোখ হয়ে যাবে। অতঃপর এরা দু’জন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে এসে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি তাদের বললেনঃ আল্লাহ্র সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, চুরি করো না, যেনা করো না, আল্লাহ যেসব প্রাণ হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন সঙ্গত কারণ ছাড়া সেগুলো হত্যা করো না, হত্যার উদ্দেশ্যে কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে বিচারালয়ে নিয়ে যেও না, যাদু করো না, সুদ খেয়ো না, সতী-সাধ্বী মহিলাকে যেনার অপবাদ দিও না, যুদ্ধের ময়দান থেকে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করো না এবং বিশেষ করে তোমরা ইয়াহূদীগণ শনিবারের সীমা লঙ্ঘন করো না।রাবী বলেন, এসব স্পষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা শুনে তারা তাঁর হাতে-পায়ে চুমু দিল এবং বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নবী। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তাহলে আমার অনুসরণ করতে তোমাদের বাধা কিসের? রাবী বলেন, তারা বলল, দাঊদ (আঃ) তাঁর রবের নিকটে দোয়া করেছিলেন যে, তাঁর (বংশধরের) সন্তানদের মধ্যেই যেন নবী হন। আমরা আশঙ্কা করছি আমরা যদি আপনার অনুসরণ করি তাহলে ইয়াহূদীগণ আমাদের হত্যা করে ফেলবে।
এ অনুচ্ছেদে ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ, ইবনু উমার ও কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও হাদিস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৭৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুই ইহুদি ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন সম্পর্কে প্রশ্ন করে। উত্তরে তাদের আল্লাহর সঙ্গে শরিক না করা, চুরি ও যিনা না করা, অন্যায়ভাবে প্রাণ হত্যা না করা, নির্দোষ মানুষকে হত্যার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে না নেওয়া, জাদু না করা, সুদ না খাওয়া, সতী নারীর বিরুদ্ধে যিনার অপবাদ না দেওয়া এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের জন্য শনিবারের সীমা না লঙ্ঘনের কথাও বিশেষভাবে বলা হয়। উত্তর শুনে তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নবুয়তের সাক্ষ্য দেয়, কিন্তু অনুসরণ না করার কারণ হিসেবে নিজেদের সম্প্রদায়ের হাতে নিহত হওয়ার ভয় জানায়। এখানে হাত-পায়ে চুমুর একটি নির্দিষ্ট ঘটনাও আছে; এটিকে আলাদা সাধারণ বিধান হিসেবে বাড়িয়ে বলা উচিত নয়। হাদিসটি সত্য স্বীকার করা ও বাস্তবে অনুসরণ করার পার্থক্য দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- চুরি, যিনা, অন্যায় হত্যা, জাদু, সুদ ও অপবাদ গুরুতর নিষিদ্ধ কাজ।
- নির্দোষ মানুষকে অন্যায় শাস্তির দিকে ঠেলে দেওয়া নিষেধ।
- সত্য চিনতে পারার পরও মানুষের ভয় কাউকে অনুসরণ থেকে বিরত রাখতে পারে।
