৪১/৬৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৩৯ - নিকৃষ্ট নাম বদলে ভালো নাম রাখার সুন্নাহ
নাম পরিবর্তন করা
খারাপ নাম পরিবর্তন: ভালো নাম রাখার নববী আদর্শ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৩৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৩৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُغَيِّرُ الاِسْمَ الْقَبِيحَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) নিকৃষ্ট নামসমূহ পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন।
আবূ ‘ঈসা বলেন, আবূ বাক্র ইবনু নাফি‘ বলেছেন, এই হাদীসের সনদের ক্ষেত্রে ‘উমার ইবনু ‘আলী কখনো বলেন, হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্-তার বাবা হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে মুরসাল হিসেবে। তাতে তিনি আয়িশাহ্ (রা:)-এর উল্লেখ করেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৩৯-এর সারসংক্ষেপ
আয়িশা রাঃ-এর এই বর্ণনা একটি সাধারণ অভ্যাসের কথা জানায়—নবী صلى الله عليه وسلم নিকৃষ্ট বা অসুন্দর নাম পরিবর্তন করে দিতেন। এখানে কোনো একটি ব্যক্তির নাম বা নতুন নামের উদাহরণ নেই; বরং কাজটির মূল নীতিই বলা হয়েছে। তাই কারও নামের অর্থ খারাপ, অসম্মানজনক বা অশোভন হলে তা ভালো নামে বদলানোর ভিত্তি এই হাদিসে পাওয়া যায়। তবে কোন নাম নিশ্চিতভাবে খারাপ এবং কী নাম রাখা হবে, তা ঠিক করতে নামের নির্ভরযোগ্য অর্থ জানা দরকার। শুধু ব্যক্তিগত অপছন্দ বা আধুনিক শোনায় না বলে কোনো নামকে “নিকৃষ্ট” বলা এই বর্ণনার সরাসরি শিক্ষা নয়। মূল কথা হলো সুন্দর পরিচয় দেওয়া এবং খারাপ নাম ধরে রাখার জেদ না করা। নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সহজতা, মর্যাদা ও ভালো অর্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দৃষ্টান্ত নবী صلى الله عليه وسلم-এর আচরণে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم অসুন্দর বা নিকৃষ্ট নাম পরিবর্তন করতেন।
- নাম বদলানোর আগে নামের সঠিক অর্থ জানা দরকার।
- শুধু ব্যক্তিগত অপছন্দকে খারাপ অর্থের সমান ধরা উচিত নয়।
- ভালো অর্থের নাম মানুষের পরিচয়কে মর্যাদাপূর্ণ করে।
