৪২/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১১ - দুই রাকাত নামাজ ও কুরআনের মাধ্যমে নৈকট্য
(কুরআন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার অধিকতর নৈকট্য অর্জন করা যায়)
নামাজ ও কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯১১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯১১
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «مَا أَذِنَ اللَّهُ لِعَبْدٍ فِي شَيْءٍ أَفْضَلَ مِنْ رَكْعَتَيْنِ يُصَلِّيهِمَا وَإِنَّ الْبِرَّ لَيُذَرُّ عَلَى رَأْسِ الْعَبْدِ مَا دَامَ فِي صَلاَتِهِ وَمَا تَقَرَّبَ الْعِبَادُ إِلَى اللَّهِ بِمِثْلِ مَا خَرَجَ مِنْهُ». قَالَ أَبُو النَّضْرِ يَعْنِي الْقُرْآنَ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَبَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ قَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَتَرَكَهُ فِي آخِرِ أَمْرِهِ .
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বান্দার দুই রাক্আত নামাযে যেভাবে মনঃসংযোগ করেন এর চেয়ে কোন কিছুতেই এই প্রকার করেন না। বান্দা যতক্ষণ নামাযে নিয়োজিত থাকে ততক্ষণ তার মাথার উপর সাওয়াব বর্ষিত হতে থাকে। বান্দা কোরআন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’আলার যতটুকু নৈকট্য অর্জন করতে পারে অন্য কিছু দ্বারা তাঁর এত নৈকট্য অর্জন করতে পারে না।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। ইবনুল মুবারাক (রহঃ) বাক্র ইবনু খুনাইসের সমালোচনা করেছেন এবং পরিশেষে তাকে পরিহার করেছেন। যাইদ ইবনু আরতাত হতে জুবাইর ইবনু নুফাইর বরাতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সূত্রে এটি মুরসালরূপে বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দুই রাকাত নামাজ এবং কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের কথা এসেছে। বলা হয়েছে, বান্দার দুই রাকাত নামাজের প্রতি আল্লাহ বিশেষ মনোযোগ দেন। বান্দা যতক্ষণ নামাজে থাকে, ততক্ষণ তার মাথার ওপর কল্যাণ বর্ষিত হতে থাকে। এরপর বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছ থেকে যা বের হয়েছে—অর্থাৎ কুরআন—তার মতো আর কোনো কিছুর মাধ্যমে বান্দারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে না। তবে বর্ণনার শেষে ইমাম আবু ঈসা এটিকে গরিব বলেছেন এবং একজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সমালোচনার কথা উল্লেখ করেছেন। তাই এর বিশেষ বাক্যগুলো বর্ণনার সনদগত অবস্থা উল্লেখ করেই তুলে ধরা উচিত। মূল পাঠ নামাজে স্থির থাকা, কুরআনের মর্যাদা বোঝা এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আসার চেষ্টা করার প্রতি উৎসাহ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় দুই রাকাত নামাজের বিশেষ মর্যাদার কথা বলা হয়েছে।
- নামাজে থাকা অবস্থায় বান্দার ওপর কল্যাণ বর্ষণের কথা এসেছে।
- কুরআনকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মহান মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বর্ণনাকারীর দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা থাকায় সনদগত সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
