৪২/১৯. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১৬ - শেখা কুরআন ভুলে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা

(কুরআন ভুলে যাওয়ার গুনাহ ভয়াবহ)

কুরআন ভুলে যাওয়া: শেখা আয়াত নিয়মিত পড়ার সতর্কতা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯১৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَكَمِ الْوَرَّاقُ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «عُرِضَتْ عَلَىَّ أُجُورُ أُمَّتِي حَتَّى الْقَذَاةِ يُخْرِجُهَا الرَّجُلُ مِنَ الْمَسْجِدِ وَعُرِضَتْ عَلَىَّ ذُنُوبُ أَمَّتِي فَلَمْ أَرَ ذَنْبًا أَعْظَمَ مِنْ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ أَوْ آيَةٍ أُوتِيهَا رَجُلٌ ثُمَّ نَسِيَهَا».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. قَالَ وَذَاكَرْتُ بِهِ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ فَلَمْ يَعْرِفْهُ وَاسْتَغْرَبَهُ. قَالَ مُحَمَّدٌ وَلاَ أَعْرِفُ لِلْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ سَمَاعًا مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ إِلاَّ قَوْلَهُ حَدَّثَنِي مَنْ شَهِدَ خُطْبَةَ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَ وَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ لاَ نَعْرِفُ لِلْمُطَّلِبِ سَمَاعًا مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَأَنْكَرَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ أَنْ يَكُونَ الْمُطَّلِبُ سَمِعَ مِنْ أَنَسٍ.

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের সকল সাওয়াব আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়, এমনকি মসজিদ হতে জঞ্জাল দূর করার সাওয়াবও। আমার উম্মাতের গুনাহসমূহও আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়। কাউকে কোরআনের কোন সূরা বা আয়াত প্রদান করার পর তা বিস্মৃত হওয়ার চাইতে বড় গুনাহ আমি আর দেখিনি।

আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলের নিকট এ হাদীস উল্লেখ করলে তিনি তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং হাদীসটিকে গারীব সংজ্ঞায়িত করেন। মুহাম্মাদ আরো বলেনঃ মুত্তালিব ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের কারো নিকট হতে সোজাসুজি কিছু শুনেছেন বলে আমার জানা নেই। তার নিম্নোক্ত কথাটি ভিন্নঃ “যিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভাষণে হাজির ছিলেন তিনি আমাকে বলেছেন” (এ কথা তার কোন সাহাবীর সাক্ষাত লাভ প্রমাণ করে, এ ছাড়া আর কোন দলিল পাওয়া যায় না)। আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমানকে বলতে শুনেছি, মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন সাহাবীর নিকট সোজাসুজি কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবদুল্লাহ (রহঃ) আরও বলেনঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট মুত্তালিবের সরাসরি শোনার বিষয়টি আলী ইবনুল মাদীনী প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১৬-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সামনে উম্মতের নেক আমল ও গুনাহ উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে। নেক আমলের মধ্যে মসজিদ থেকে ময়লা বা জঞ্জাল সরিয়ে দেওয়ার কাজও উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, কাউকে কুরআনের কোনো সূরা বা আয়াত দেওয়ার পর তা ভুলে যাওয়ার চেয়ে বড় গুনাহ তিনি দেখেননি। তবে বর্ণনার শেষাংশে এর সনদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। ইমাম আবু ঈসা এটিকে গরিব বলেছেন এবং বর্ণনাকারীর একজন সাহাবির কাছ থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয় বলে একাধিক মুহাদ্দিসের মত উল্লেখ করেছেন। তাই শেখা কুরআন ভুলে যাওয়ার বিষয়টি উদ্ধৃত করার সময় এই সনদগত দুর্বলতা পরিষ্কার রাখা দরকার। বর্ণনাটি শেখা অংশ পুনরাবৃত্তির প্রতি সতর্কতা তৈরি করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মসজিদ থেকে ময়লা সরানোও নেক আমল হিসেবে বর্ণনায় উল্লেখিত।
  • শেখা কুরআনের সূরা ও আয়াত নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন বোঝা যায়।
  • কুরআন ভুলে যাওয়া নিয়ে বর্ণনাটিতে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
  • সনদে বিচ্ছিন্নতার আলোচনা থাকায় এটিকে নিশ্চিত সহিহ বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন