৪২/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯২৪ - বিতর, কিরাআত ও জানাবাতে সহজতা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ক্বিরাআত কিরূপ ছিল
বিতরের সময় ও কিরাআতে নবীজির সহজতার আমল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯২৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯২৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، هُوَ رَجُلٌ بَصْرِيٌّ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ وِتْرِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ كَيْفَ كَانَ يُوتِرُ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ أَوْ مِنْ آخِرِهِ فَقَالَتْ كُلُّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يَصْنَعُ رُبَّمَا أَوْتَرَ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ وَرُبَّمَا أَوْتَرَ مِنْ آخِرِهِ . فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الأَمْرِ سَعَةً فَقُلْتُ كَيْفَ كَانَتْ قِرَاءَتُهُ أَكَانَ يُسِرُّ بِالْقِرَاءَةِ أَمْ يَجْهَرُ قَالَتْ كُلُّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يَفْعَلُ قَدْ كَانَ رُبَّمَا أَسَرَّ وَرُبَّمَا جَهَرَ قَالَ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الأَمْرِ سَعَةً قُلْتُ فَكَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ فِي الْجَنَابَةِ أَكَانَ يَغْتَسِلُ قَبْلَ أَنْ يَنَامَ أَوْ يَنَامُ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ قَالَتْ كُلُّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يَفْعَلُ فَرُبَّمَا اغْتَسَلَ فَنَامَ وَرُبَّمَا تَوَضَّأَ فَنَامَ قُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الأَمْرِ سَعَةً .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাইস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিত্রের নামায বিষয়ে ‘আয়িশা (রাঃ) কে প্রশ্ন করলাম যে, তিনি কি রাতের প্রথম ভাগে বিতর আদায় করতেন না শেষ ভাগে? তিনি বললেন, তিনি দুই সময়েই তা আদায় করতেন। তিনি কখনো তা রাতের প্রথম ভাগে আদায় করে নিতেন আবার কখনো শেষ রাতে আদায় করতেন। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্র যিনি এ ব্যাপারে ব্যাপক সুবিধাজনক ব্যবস্থা রেখেছেন।আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তাঁর ক্বিরাআত পাঠ কেমন ছিল? তিনি কি তা চুপি চুপি পড়তেন না সশব্দে পড়তেন? তিনি বললেন, উভয়ভাবেই পড়তেন। কখনো তিনি তা চুপে চুপে পড়তেন, আবার কখনো সশব্দে পড়তেন। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি এ ব্যাপারে প্রশস্ততর ব্যবস্থা রেখেছেন।আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তিনি জানাবাতের (স্ত্রীসহবাস জনিত গোসল) ব্যাপারে কি করতেন? তিনি কি ঘুমিয়ে যাওয়ার পূর্বেই গোসল সারতেন না গোসলের পূর্বেই ঘুমিয়ে যেতেন? তিনি বললেন, তিনি দু’টোই করতেন। তিনি কখনো গোসলের পর ঘুমাতেন আবার কখনো ওজু করে ঘুমিয়ে যেতেন (জাগ্রত হওয়ার পর গোসল করতেন)। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ তা’আলার যিনি এ ব্যাপারেও প্রশস্ততর ব্যবস্থা রেখেছেন।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপরোক্ত সূত্রে হাসান গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কয়েকটি আমলে সুযোগ ও সহজতা। আয়িশা রাঃ জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কখনো রাতের প্রথম ভাগে, আবার কখনো শেষ ভাগে বিতর আদায় করতেন। কিরাআতেও তিনি কখনো নিচু স্বরে, কখনো সশব্দে পড়তেন। জানাবাতের অবস্থায় ঘুমানোর ক্ষেত্রেও দুই ধরনের আমল বর্ণিত হয়েছে: কখনো গোসল করে ঘুমাতেন, আবার কখনো ওজু করে ঘুমিয়ে পরে গোসল করতেন। প্রশ্নকারী প্রতিটি উত্তরের পর আল্লাহর প্রশংসা করেছেন, কারণ একই বিষয়ে একাধিক পদ্ধতির সুযোগ দেখা গেছে। তবে হাদিসটি সব পরিস্থিতিতে সব পদ্ধতি সমানভাবে প্রয়োগের বিস্তারিত বিধান দেয় না। তাই এর সরাসরি শিক্ষা হলো—নবীজির আমলে এসব বিষয়ে একাধিক বাস্তব পদ্ধতি ছিল। এ তিনটি প্রশ্নের উত্তরই আয়িশা রাঃ-এর প্রত্যক্ষ বর্ণনার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিতর রাতের প্রথম বা শেষ ভাগে আদায়ের বর্ণনা আছে।
- কিরাআত কখনো নীরবে, কখনো সশব্দে করা হয়েছে।
- জানাবাতে ঘুমের আগে গোসল অথবা ওজু—দুই আমলই বর্ণিত।
- একাধিক নববী পদ্ধতিকে অযথা বিরোধ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
