৪২/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯২৩ - রাতের নামাজ ও স্পষ্ট কুরআন তিলাওয়াত
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ক্বিরাআত কিরূপ ছিল
নবীজির রাতের নামাজ ও স্পষ্ট কিরাআতের ধরন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯২৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯২৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ مَمْلَكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ عَنْ قِرَاءَةِ النَّبِيِّ ﷺ وَصَلاَتِهِ فَقَالَتْ مَا لَكُمْ وَصَلاَتَهُ كَانَ يُصَلِّي ثُمَّ يَنَامُ قَدْرَ مَا صَلَّى ثُمَّ يُصَلِّي قَدْرَ مَا نَامَ ثُمَّ يَنَامُ قَدْرَ مَا صَلَّى حَتَّى يُصْبِحَ ثُمَّ نَعَتَتْ قِرَاءَتَهُ فَإِذَا هِيَ تَنْعَتُ قِرَاءَةً مُفَسَّرَةً حَرْفًا حَرْفًا .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ لَيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ مَمْلَكٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . وَقَدْ رَوَى ابْنُ جُرَيْجٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُقَطِّعُ قِرَاءَتَهُ . وَحَدِيثُ لَيْثٍ أَصَحُّ .
ইয়া'লা ইবনু মামলাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী উম্মু সালামা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (রাতের) কিরা'আত ও নামায কেমন ছিল? তিনি বললেনঃ তাঁর নামাযের কথা শুনে তোমাদের কি ফায়দা? তিনি যতক্ষণ নামায আদায় করতেন ঠিক ততক্ষণ ঘুমাতেন, আবার উঠে যতক্ষণ ঘুমিয়েছেন ততক্ষণ নামায আদায় করতেন, আবার এ নামাযের সমপরিমাণ সময় ঘুমাতেন। এভাবে তাঁর সকাল হত। তারপর তিনি তাঁর কিরা'আতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ তাঁর পাঠ ছিল অত্যন্ত সহজবোধ্য তিনি প্রতিটি অক্ষর পৃথক করে পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করতেন।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধুমাত্র লাইস ইবনু সা’দের রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি, যা তিনি ইবনু আবু মুলাইকা হতে তিনি ইয়ালা ইবনু মামলাক হতে তিনি উন্মু সালামা (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরাইজ উপরোক্ত হাদীসটি ইবনু আবী মুলাইকার সূত্রে উন্মু সালামার বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদা করে উচ্চারণ করে কুরআন পাঠ করতেন।” লাইস-এর রিওয়ায়াতটিই অনেক বেশি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কোর বিষয় রাতের নামাজ এবং পরিষ্কার কুরআন তিলাওয়াত। উম্মু সালমা রাঃ জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কিছু সময় নামাজ পড়তেন, তারপর প্রায় সমপরিমাণ সময় ঘুমাতেন। আবার উঠে নামাজ পড়তেন এবং পরে ঘুমাতেন। এভাবে সকাল হতো। এতে রাতের ইবাদত ও বিশ্রামের একটি পর্যায়ক্রমিক ধরন দেখা যায়। তাঁর কিরাআত সম্পর্কে বলা হয়েছে, তা ছিল সহজবোধ্য ও স্পষ্ট; তিনি প্রতিটি অক্ষর আলাদা করে পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করতেন। এখানে দ্রুত শেষ করার চেয়ে শব্দ বোঝা যায় এমনভাবে পড়ার দিকটি সামনে এসেছে। হাদিসটি নির্দিষ্ট রাকাত বা সময়ের সংখ্যা দেয়নি, তাই ব্যাখ্যায় এমন কোনো সংখ্যা যোগ করা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো পরিমিত রাতের ইবাদত এবং পরিষ্কার তিলাওয়াত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের ইবাদতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ঘুমের ভারসাম্য রাখা যায়।
- কুরআন ধীরে ও পরিষ্কারভাবে পড়া উচিত।
- প্রতিটি অক্ষর বোঝা যায় এমন উচ্চারণে কিরাআত করা ভালো।
- হাদিসে না থাকা রাকাত বা সময়ের সংখ্যা যোগ করা উচিত নয়।
