৪২/২২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯২২ - সকাল-সন্ধ্যায় সূরা হাশরের শেষ আয়াত
(সূরা আল-হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত)
সকাল-সন্ধ্যায় সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯২২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯২২
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ طَهْمَانَ أَبُو الْعَلاَءِ الْخَفَّافُ، حَدَّثَنِي نَافِعُ بْنُ أَبِي نَافِعٍ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَقَرَأَ ثَلاَثَ آيَاتٍ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْحَشْرِ وَكَّلَ اللَّهُ بِهِ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ مَاتَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ مَاتَ شَهِيدًا وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُمْسِي كَانَ بِتِلْكَ الْمَنْزِلَةِ» . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি সকালে উপস্থিত হয়ে তিনবার বলবে “আঊযু বিল্লাহিস্ সামীইল আলীমি মিনাশ্ শাইতানির রাজীম”, তারপর সূরা আল-হাশরের শেষের তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ্ তা’আলা তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা নিয়োজিত করবেন। তাঁরা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকবেন। সে ঐ দিন ইন্তেকাল করলে তার শহীদী মৃত্যু হবে। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এরূপ পাঠ করবে, সেও একই রকম গৌরবের অধিকারী হবে।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সকাল-সন্ধ্যার আমল এবং সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ। বর্ণনায় বলা হয়েছে, সকালে তিনবার ‘আউজু বিল্লাহিস সামীইল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম’ বলে শেষ তিন আয়াত পড়লে আল্লাহ সত্তর হাজার ফেরেশতা নিয়োজিত করেন, যারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করেন। ওই দিনে মৃত্যু হলে শহীদের মর্যাদার কথাও বলা হয়েছে। সন্ধ্যায় একইভাবে পাঠ করলে রাতের জন্য একই মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটি একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা শেখায়: প্রথমে আশ্রয়ের বাক্য তিনবার, তারপর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত। তাই ব্যাখ্যায় সংখ্যা, সময় ও পাঠের ক্রম ঠিক রাখা জরুরি; এগুলো বদলে অন্য আমলের সঙ্গে মেশানো উচিত নয়। বর্ণিত আমলটির ফলও সকাল ও সন্ধ্যার সময়সীমার সঙ্গে আলাদাভাবে যুক্ত করে বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সকাল ও সন্ধ্যার জন্য আলাদা করে কুরআন পাঠের সময় রাখা যায়।
- বর্ণিত আমলে আশ্রয়ের বাক্য তিনবার পড়ার কথা এসেছে।
- এরপর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করতে বলা হয়েছে।
- হাদিসে ফেরেশতাদের দোয়া ও বিশেষ মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে।
