৪৩/১২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৪৫ - মুসলিমের সাহায্য, ইলম ও কুরআন অধ্যয়ন
(মু‘মিনের দোষ গোপন রাখা ও তাকে সাহায্য করা)
মুসলিমের সাহায্য ও ইলম অর্জনের ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৪৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৪৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ نَفَّسَ عَنْ أَخِيهِ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا قَعَدَ قَوْمٌ فِي مَسْجِدٍ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَمَنْ أَبْطَأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِثْلَ هَذَا الْحَدِيثِ وَرَوَى أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ الأَعْمَشِ قَالَ حُدِّثْتُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ. فَذَكَرَ بَعْضَ هَذَا الْحَدِيثِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়াতে যে লোক তার কোন ভাইয়ের একটি বিপদ দূর করবে, ক্বিয়ামাতের দিবসে আল্লাহ তা’আলা তার একটি বিপদ দূর করবেন। আর কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি যে লোক গোপন রাখবে, আল্লাহ তা’আলা ইহকালে ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। কোন অভাবীর কষ্ট যে ব্যক্তি দূর করবে, ইহকালে ও পরকালে তার কষ্ট আল্লাহ তা’আলা দূর করবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা বান্দার সহায়তা করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার কোন ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।যে লোক জ্ঞান অর্জনের পথে বের হয় আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন দল মসজিদে আল্লাহ তা’আলার কিতাব তিলাওয়াত এবং তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা করার উদ্দেশে একত্রিত হয়, তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, (আল্লাহ তা’আলার) রাহমাত তাদের ঢেকে ফেলে এবং ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে। কৃতকর্ম যাকে পিছিয়ে দেয় বংশ মর্যাদা তাকে অগ্রসর করতে পারে না।
আবূ ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী এভাবেই আ’মাশের সূত্রে–আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (ﷺ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আসবাত্ব ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) আ’মাশের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আবূ সালিহ–আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে তিনি নাবী (ﷺ) হতে....তারপর এ হাদীসের কোন কোন অংশ বর্ণনা করেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিমের সাহায্য, দোষ গোপন রাখা, অভাবীর কষ্ট সহজ করা, ইলম অর্জন এবং কুরআন অধ্যয়নের কয়েকটি বড় শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় তার ভাইয়ের বিপদ কমায়, তার জন্য কিয়ামতের একটি বিপদ দূর করার কথা বলা হয়েছে। যে মুসলিমের দোষ গোপন রাখে এবং অভাবীর জন্য সহজ করে, তার প্রতিও আল্লাহর অনুগ্রহের কথা এসেছে। বান্দা যতক্ষণ ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহ তার সাহায্যে থাকেন। জ্ঞান অর্জনের পথে চলা জান্নাতের পথ সহজ হওয়ার কারণ বলা হয়েছে। মসজিদে কুরআন তিলাওয়াত ও পরস্পর অধ্যয়ন করলে প্রশান্তি, রহমত এবং ফেরেশতাদের ঘিরে রাখার কথা এসেছে। শেষ বাক্যটি মনে করিয়ে দেয়—বংশ নয়, কাজই মানুষকে এগিয়ে দেয়। প্রতিটি অংশই ব্যক্তিগত আমল ও সামাজিক দায়িত্বকে একসঙ্গে যুক্ত করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের বিপদ ও অভাব কমাতে বাস্তবভাবে এগিয়ে আসা উচিত।
- মুসলিমের দোষ প্রকাশ না করে গোপন রাখা উত্তম আচরণ।
- ইলম অর্জনের পথে চলা এবং দলবদ্ধভাবে কুরআন অধ্যয়ন করা ফজিলতের কাজ।
- বংশমর্যাদার চেয়ে নিজের আমল ও কাজের গুরুত্ব বেশি।
