৪৩/১১. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৪৩ - সাত হরফে কুরআন ও কিরাআতের ভিন্নতা

সাত রীতিতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে

সাত হরফে কুরআন নাজিল: গ্রহণযোগ্য কিরাআতের ভিন্নতা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৪৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، أَخْبَرَاهُ أَنَّهُمَا، سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ مَرَرْتُ بِهِشَامِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ وَهُوَ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَاسْتَمَعْتُ قِرَاءَتَهُ فَإِذَا هُوَ يَقْرَأُ عَلَى حُرُوفٍ كَثِيرَةٍ لَمْ يُقْرِئْنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَكِدْتُ أُسَاوِرُهُ فِي الصَّلاَةِ فَنَظَرْتُهُ حَتَّى سَلَّمَ فَلَمَّا سَلَّمَ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَقُلْتُ مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ السُّورَةَ الَّتِي سَمِعْتُكَ تَقْرَؤُهَا فَقَالَ أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ . قُلْتُ لَهُ كَذَبْتَ وَاللَّهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَهُوَ أَقْرَأَنِي هَذِهِ السُّورَةَ الَّتِي تَقْرَؤُهَا .فَانْطَلَقْتُ أَقُودُهُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى حُرُوفٍ لَمْ تُقْرِئْنِيهَا وَأَنْتَ أَقْرَأْتَنِي سُورَةَ الْفُرْقَانِ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " «أَرْسِلْهُ يَا عُمَرُ اقْرَأْ يَا هِشَامُ» " . فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " «اقْرَأْ يَا عُمَرُ» " . فَقَرَأْتُ الْقِرَاءَةَ الَّتِي أَقْرَأَنِي النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ " .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ .

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি (নামাযে মধ্যে) সূরা আল-ফুরকান তিলাওয়াত করছিলেন। আমি মনোযোগ সহকারে তাঁর তিলাওয়াত শুনলাম এবং লক্ষ্য করলাম যে, তিনি অনেকগুলো অক্ষর এমন নিয়মে তিলাওয়াত করেছেন যে নিয়মে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে পড়ান নি। আমি তাঁকে নামাযের মধ্যেই জব্দ করতে উদ্যত হলাম কিন্তু সালাম ফিরানো পর্যন্ত অবকাশ দিলাম।তিনি সালাম ফিরাতেই আমি তাঁর চাদর তাঁর গলায় পেচিয়ে ধরে প্রশ্ন করলাম, আমি আপনাকে যে (রীতিতে এ) সূরাটি পাঠ করতে শুনলাম তা আপনাকে কে শিখিয়েছে? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে (এরূপই) শিখিয়েছেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি মিথ্যা বলছেন। আল্লাহ্‌র কসম! আপনি যে সূরাটি পাঠ করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে আমাকে তা শিখিয়েছেন।তারপর আমি তাঁকে টেনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি আমাকে সূরা আল-ফুরক্বান যেভাবে পাঠ করা শিখিয়েছেন, সেই সূরা তা হতে ভিন্নভাবে আমি একে পাঠ করতে শুনেছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে ‘উমর! তাঁকে ছেড়ে দাও। হে হিশাম! তুমি সূরাটি পাঠ করে শুনাও। আমি যেভাবে তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনেছিলাম সেরূপেই তিনি তা তিলাওয়াত করলেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ এটা এইভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে।তারপর নবী (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে ‘উমর! তুমি তিলাওয়াত করে শুনাও। যেভাবে নবী (ﷺ) আমাকে পাঠ করিয়েছেন আমি সেভাবেই তা পাঠ করলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ এভাবেও এটা অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন বস্তুত এ কোরআন সাত রীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং যেভাবেই তোমাদের সহজ হয় সেভাবেই তা পাঠ করবে।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) যুহ্‌রী হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তাতে মিসওয়ার ইবনু মাখারামার উল্লেখ করেননি।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৪৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় সাত হরফে কুরআন নাজিল এবং গ্রহণযোগ্য কিরাআতের ভিন্নতা। উমর (রাঃ) সূরা আল-ফুরকানের এমন পাঠ শুনেছিলেন, যা তাঁর শেখা পাঠের সঙ্গে মিলছিল না। তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে নিয়ে যান। নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমে হিশাম (রাঃ)-কে পড়তে বলেন এবং তাঁর পাঠকে সঠিক বলেন। এরপর উমর (রাঃ)-কে পড়তে বলেন এবং তাঁর পাঠকেও সঠিক বলেন। তারপর জানান, কুরআন সাত হরফে নাজিল হয়েছে; যেটি সহজ হয়, সেটি পড়া যায়। হাদিসটি শেখায়, অনুমোদিত পাঠভেদ দেখলেই কাউকে ভুল বলা ঠিক নয়। বিরোধ হলে জ্ঞানী ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে যাচাই করতে হবে। নিজের শেখা রীতিকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধরে নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার। এভাবে যাচাই করে মতভেদ মেটানো শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষণীয় পথ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অনুমোদিত কিরাআতের ভিন্নতা থাকলে তাড়াহুড়া করে কাউকে ভুল বলা উচিত নয়।
  • পাঠ নিয়ে মতভেদ হলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো পদ্ধতি ও নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের কাছে ফিরে যেতে হবে।
  • সাত হরফে নাজিল হওয়ার কারণে সহজ ও অনুমোদিত রীতিতে কুরআন পাঠ করা যায়।
  • মতভেদ মেটাতে উভয় পক্ষের পাঠ শুনে বিচার করা ন্যায়সংগত পদ্ধতি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন