৬৬/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৯২ - সূরা ফুরকান ও সাত হরফ
কুরআন সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।
সূরা ফুরকানের কিরাত ও কুরআন সাত হরফে নাজিল
সহীহ বুখারী : ৪৯৯২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯৯২
سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدٍ الْقَارِيَّ حَدَّثَاهُ أَنَّهُمَا سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُوْلُسَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيْمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ فِيْ حَيَاةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَاسْتَمَعْتُ لِقِرَاءَتِهِ فَإِذَا هُوَ يَقْرَأُ عَلَى حُرُوْفٍ كَثِيْرَةٍ لَمْ يُقْرِئْنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَكِدْتُ أُسَاوِرُهُ فِي الصَّلَاةِ فَتَصَبَّرْتُ حَتَّى سَلَّمَ فَلَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَقُلْتُ مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ السُّوْرَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُكَ تَقْرَأُ قَالَ أَقْرَأَنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقُلْتُ كَذَبْتَ فَإِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَدْ أَقْرَأَنِيْهَا عَلَى غَيْرِ مَا قَرَأْتَفَانْطَلَقْتُ بِهِ أَقُوْدُهُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺفَقُلْتُ إِنِّيْ سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ بِسُوْرَةِ الْفُرْقَانِ عَلَى حُرُوْفٍ لَمْ تُقْرِئْنِيْهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَرْسِلْهُ اقْرَأْ يَا هِشَامُ فَقَرَأَ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَذَلِكَ أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ يَا عُمَرُ فَقَرَأْتُ الْقِرَاءَةَ الَّتِيْ أَقْرَأَنِيْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَذَلِكَ أُنْزِلَتْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوْا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ.
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হিশাম ইব্নু হাকীম (রাঃ)- কে রাসূল (ﷺ)– এর জীবদ্দশায় সূরা ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে আমি তাঁর কিরাআত শুনেছি। তিনি বিভিন্নভাবে কিরায়াত পাঠ করেছেন; অথচ রাসূল (ﷺ) আমাকে এভাবে শিক্ষা দেননি। এ কারণে সালাতের মাঝে আমি তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আমি উদ্যত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু বড় কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম।তারপর সে সালাম ফিরালে আমি চাদর দিয়ে তাঁর গলা পেঁচিয়ে ধরলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, তোমাকে এ সূরা যেভাবে পাঠ করতে শুনলাম, এভাবে তোমাকে কে শিক্ষা দিয়েছে? সে বলল, রাসূল (ﷺ)– ই আমাকে এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। কারণ, তুমি যেভাবে পাঠ করেছ, এর থেকে ভিন্ন ভাবে রাসূল (ﷺ) আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।এরপর আমি তাঁকে জোর করে টেনে রাসূল (ﷺ)– এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে সূরা ফুরকান যেভাবে পাঠ করতে শিখিয়েছেন এ লোককে আমি এর থেকে ভিন্নভাবে তা পাঠ করতে শুনেছি। এ কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, তাঁকে ছেড়ে দাও। হিশাম, তুমি পাঠ করে শোনাও। তারপর সে সেভাবে পাঠ করে শোনাল, যেভাবে আমি তাঁকে পাঠ করতে শুনেছি। তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেন, এভাবেই অবতীর্ণ করা হয়েছে।এরপর বললেন, হে ‘উমর! তুমিও পড়। সুতরাং আমাকে তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই আমি পাঠ করলাম। এবারও রাসূল (ﷺ) বললেন, এভাবেও কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। এ কোরআন সাত আঞ্চলিক ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। সুতরাং তোমাদের জন্য যা বেশি সহজ, সেভাবেই তোমরা পাঠ কর।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর রাঃ সূরা ফুরকান পাঠ নিয়ে একটি ঘটনার কথা বলেন। তিনি হিশাম ইবনু হাকীম রাঃ-কে এমনভাবে পাঠ করতে শুনেন, যা তিনি নবী صلى الله عليه وسلم থেকে শেখেননি। তিনি সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত নিজেকে ধরে রাখেন। পরে তাঁকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে নিয়ে যান। নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমে হিশাম রাঃ-কে পড়তে বলেন এবং বলেন, এভাবেই নাজিল হয়েছে। এরপর উমর রাঃ-কে পড়তে বলেন এবং তাঁর পাঠ সম্পর্কেও বলেন, এভাবেও নাজিল হয়েছে। তারপর নবী صلى الله عليه وسلم জানান, কুরআন সাত হরফে নাজিল হয়েছে। তাই যা সহজ, তা পড়তে বলা হয়েছে। হাদিসটি কিরাতের বৈধ ভিন্নতা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীদের মধ্যে কিরাতের ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
- নবী صلى الله عليه وسلم উমর রাঃ ও হিশাম রাঃ উভয়ের পাঠকে সঠিক বলেন।
- কুরআন সাত হরফে নাজিল হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে এসেছে।
- কুরআন পাঠে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশই চূড়ান্ত মানদণ্ড।
