৬৬/৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৯৩ - কুরআন নাজিলের ধারা ও সূরার বিন্যাস

কুরআন সংকলন

কুরআন নাজিলের ধারা: আগে ঈমান, পরে বিধানের আলোচনা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯৯৩

إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ قَالَ وَأَخْبَرَنِيْ يُوْسُفُ بْنُ مَاهَكٍ قَالَ إِنِّيْ عِنْدَ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا إِذْ جَاءَهَا عِرَاقِيٌّ فَقَالَ أَيُّ الْكَفَنِ خَيْرٌ قَالَتْ وَيْحَكَ وَمَا يَضُرُّكَ قَالَ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ أَرِيْنِيْ مُصْحَفَكِ قَالَتْ لِمَ قَالَ لَعَلِّيْ أُوَلِّفُ الْقُرْآنَ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يُقْرَأُ غَيْرَ مُؤَلَّفٍ قَالَتْ وَمَا يَضُرُّكَ أَيَّهُ قَرَأْتَ قَبْلُ إِنَّمَا نَزَلَ أَوَّلَ مَا نَزَلَ مِنْهُ سُوْرَةٌ مِنَ الْمُفَصَّلِ فِيْهَا ذِكْرُ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ حَتَّى إِذَا ثَابَ النَّاسُ إِلَى الإِسْلَامِ نَزَلَ الْحَلَالُ وَالْحَرَامُ وَلَوْ نَزَلَ أَوَّلَ شَيْءٍ لَا تَشْرَبُوا الْخَمْرَ لَقَالُوْا لَا نَدَعُ الْخَمْرَ أَبَدًا وَلَوْ نَزَلَ لَا تَزْنُوْا لَقَالُوْا لَا نَدَعُ الزِّنَا أَبَدًا لَقَدْ نَزَلَ بِمَكَّةَ عَلَى مُحَمَّدٍ ﷺ وَإِنِّيْ لَجَارِيَةٌ أَلْعَبُ﴾بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ} وَمَا نَزَلَتْ سُوْرَةُ الْبَقَرَةِ وَالنِّسَاءِ إِلَّا وَأَنَا عِنْدَهُ قَالَ فَأَخْرَجَتْ لَهُ الْمُصْحَفَ فَأَمْلَتْ عَلَيْهِ آيَ السُّوَرِ.

ইউসুফ ইব্‌নু মাহাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় এক ইরাকী ব্যক্তি এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলঃ কোন্ ধরনের কাফন শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আফ্সোস তোমার প্রতি! এতে তোমার কী ক্ষতি? তারপর লোকটি বলল, হে উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে আপনি আপনার কোরআনের কপি দেখান। তিনি বললেন, কেন? লোকটি বলল, এ তারতীবে কোরআনকে বিন্যস্ত করার জন্য। কারণ লোকেরা তাকে অবিন্যস্তভাবে পাঠ করে।‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তোমরা এর যে অংশই আগে পাঠ কর না কেন, এতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। (الْمُفَصَّلِ) মুফাস্সাল সূরা সমূহের মাঝে প্রথমত ঐ সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে যার মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে। তারপর যখন লোকেরা দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে লাগল তখন হালাল-হারামের বিধান সম্বলিত সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। যদি প্রথমেই এ আয়াত অবতীর্ণ হত যে, তোমরা মদ পান করো না, তাহলে লোকেরা বলত, আমরা কখনো মদপান ত্যাগ করব না। যদি শুরুতে অবতীর্ণ হতো তোমার ব্যভিচার করো না, তাহলে তারা বলত আমরা কখনো অবৈধ যৌনাচার ত্যাগ করব না।আমি যখন খেলাধূলার বয়সী একজন বালিকা তখন মক্কা্য় মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রতি নিম্নলিখিত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়ঃ بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ মানে, ‘‘অধিকন্তু ক্বিয়ামাত তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং ক্বিয়ামাত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর।’’ (বিধান সম্বলিত) সূরা বাকারাহ ও সূরা নিসা আমি রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে থাকাকালীন অবস্থায় অবতীর্ণ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাঁর কাছে সংরক্ষিত কোরআনের কপি বের করলেন এবং সূরাসমূহ লেখালেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৯৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা রাঃ কুরআন নাজিলের ধারা নিয়ে কথা বলেন। এক ইরাকি ব্যক্তি তাঁর কাছে কুরআনের কপি দেখতে চান, যাতে সূরাগুলো সাজাতে পারেন। আয়িশা রাঃ বলেন, কোন অংশ আগে পড়া হলো এতে ক্ষতি নেই। তিনি জানান, প্রথমে এমন সূরা নাজিল হয়েছে যেখানে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা ছিল। পরে মানুষ ইসলাম গ্রহণে স্থির হলে হালাল-হারামের বিধানসমূহ নাজিল হয়। তিনি উদাহরণ দেন, শুরুতেই মদ বা ব্যভিচার নিষেধ হলে লোকেরা তা ছাড়তে না চাইতে পারত। এরপর তিনি তাঁর কুরআনের কপি বের করেন এবং সূরার আয়াত লিখিয়ে দেন। হাদিসটি কুরআন নাজিলের ধীরে ধীরে শিক্ষা দেওয়ার দিকটি তুলে ধরে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআন নাজিলের শুরুতে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা ছিল।
  • মানুষ ইসলাম গ্রহণে স্থির হলে হালাল-হারামের বিধান নাজিল হয়।
  • আয়িশা রাঃ সূরার বিন্যাস বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন।
  • শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বোঝানোর দিকটি হাদিসে দেখা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন