৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৫৮ - সওয়ারিতে নফল নামাজ
সূরা আল-বাক্বারাহ
সওয়ারিতে নফল নামাজ: যাত্রাপথে যেদিকে বাহন যায়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৫৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ تَطَوُّعًا حَيْثُمَا تَوَجَّهَتْ بِهِ وَهُوَ جَاءٍ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ ثُمَّ قَرَأَ ابْنُ عُمَرَ هَذِهِ الآيَةَ : ﴾وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ﴿ الآيَةَ . قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَفِي هَذَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মক্কা হতে মাদীনায় ফেরার পথে তাঁর সাওয়ারী তাঁকে নিয়ে যে অভিমুখে অগ্রসর হত তিনি সেদিকে ফিরেই নফল নামাজ আদায় করতেন।তারপর ইবনু ‘উমর (রাঃ) এই আয়াত পাঠ করেনঃ ‘পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ তা’আলারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও সেদিকই আল্লাহ তা’আলার চেহারা” – (সূরা আল - বাক্বারাহ ১১৫)।ইবনু ‘উমর (রাঃ) বলেন, এ প্রসঙ্গেই উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন যে, এর নির্দেশ রহিত (মানসূখ) হয়ে গেছে।রহিতকারী (নাসিখ) আয়াতটি হল : “অতএব তুমি মাসজিদুল হারামের দিকে তোমার মুখ ফিরাও” – (সূরা আল – বাক্বারাহ ১৪৪)।‘শাতরাল মাসজিদিল হারাম” অর্থাৎ “কা’বার দিকে”। তাঁর এই মত নিম্নোক্ত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে : মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মালিক ইবনু আবুশ শাওয়ারিব-ইয়াযীদ ইবনু যুরাইহ হতে, তিনি সা’ঈদ হতে, তিনি ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে। মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি “ফাছাম্মা ওয়াজহুল্লাহ” অর্থ করেছেন, “ফাসাম্মা ক্বিবলাতুল্লাহ” (সেদিকেই আল্লাহ তা’আলার ক্বিবলাহ রয়েছে)। তাঁর এই মত নিম্নোক্ত সূত্রে বর্ণিতঃ আবূ কুরাইব মুহাম্মদ ইবনুল ‘আলা-ওয়াকী হতে, তিনি নাযর ইবনু ‘আরাবী হতে, তিনি মুজাহিদ (রহঃ) হতে। সানাদ সহীহ, মাকতূ’।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সফরে সওয়ারির ওপর নফল নামাজ আদায় করা। নবী صلى الله عليه وسلم মক্কা থেকে মদিনায় ফেরার পথে তাঁর বাহন যেদিকে এগিয়ে যেত, সেদিকেই মুখ করে নফল নামাজ পড়তেন। এরপর ইবনু উমর (রাঃ) সূরা বাকারার আয়াত পড়েন—পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; যেদিকে মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা। তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গেই আয়াতটি নাজিল হয়েছে। বর্ণনাটি বিশেষভাবে নফল নামাজের কথা বলেছে। তাই এটিকে সব নামাজের সাধারণ নিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। সফরের অবস্থায় চলমান বাহনে নফল ইবাদতের সহজতা এখানে দেখা যায়। একই সঙ্গে আয়াতের সঙ্গে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলের সম্পর্কও তুলে ধরা হয়েছে। তাই সফরের সহজতা বুঝলেও বর্ণনার নির্দিষ্ট সীমা মনে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে চলমান সওয়ারির ওপর নফল নামাজ আদায়ের বর্ণনা এসেছে।
- বাহন যেদিকে গেছে, নবী صلى الله عليه وسلم নফল নামাজে সেদিকেই মুখ করেছেন।
- হাদিসটি নফল নামাজের বিষয়ে; এর সীমা বজায় রেখে ব্যাখ্যা করা উচিত।
- আয়াতের ব্যাখ্যায় সাহাবির বর্ণিত প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।
