৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৬২ - কিবলা পরিবর্তন ও সাহাবিদের আনুগত্য
সূরা আল-বাক্বারাহ
কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা: বাইতুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে নামাজ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৬২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৬২
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَدِينَةَ صَلَّى نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُحِبُّ أَنْ يُوَجَّهَ إِلَى الْكَعْبَةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ: ﴾ قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ﴿ فَوَجَّهَ نَحْوَ الْكَعْبَةِ وَكَانَ يُحِبُّ ذَلِكَ فَصَلَّى رَجُلٌ مَعَهُ الْعَصْرَ قَالَ ثُمَّ مَرَّ عَلَى قَوْمٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَهُمْ رُكُوعٌ فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَقَالَ هُوَ يَشْهَدُ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَنَّهُ قَدْ وُجِّهَ إِلَى الْكَعْبَةِ قَالَ فَانْحَرَفُوا وَهُمْ رُكُوعٌ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ .
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাদীনায় পদার্পণ করে ষোল বা সতের মাস পর্যন্ত বাইতুল মাকদিসের দিকে (ফিরে) নামাজ আদায় করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কা’বার দিকে (মুখ করে) নামাজ আদায় করার আগ্রহ পোষণ করতেন।এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেন : “আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্যই লক্ষ্য করেছি। কাজেই আমি তোমাকে অবশ্যই এমন কেবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি মাসজিদুল হারামের দিকে তোমার মুখ ফিরাও” – (সূরা আল –বাক্বারাহঃ ১৪৫)।ফলে কা’বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া হলো। আর তিনি এটাই পছন্দ করতেন। এক লোক তাঁর সাথে ‘আসরের নামাজ আদায় করে একদল আনসারীর সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখন বাইতুল মাকদিসের দিকে (মুখ করে) আসরের নামাজের রুকূতে ছিল। তিনি বললেন, এই লোকটি সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামাজ আদায় করে এসেছে। আর প্রকৃত অবস্থা এই যে, (নামাজে) কা’বার দিকে মুখ ফিরানো হয়েছে। তারাও তৎক্ষণাৎ রুকূ’ অবস্থায়ই (কা’বার দিকে) ঘুরে যান।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান সাওরীও এটি আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা বিস্তারিতভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মদিনায় আসার পর ছয় অথবা সতেরো মাস বাইতুল মাকদিসের দিকে ফিরে নামাজ পড়েন। তবে তিনি কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতে পছন্দ করতেন। এরপর আল্লাহ তাআলা মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার পর কাবাই মুসলিমদের কিবলা হয়। একজন সাহাবি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে আসরের নামাজ পড়ে আনসারদের একটি দলের কাছে যান। তারা তখন পুরোনো কিবলার দিকে মুখ করে রুকুতে ছিলেন। নতুন নির্দেশের সংবাদ শুনেই তারা রুকু অবস্থায় কাবার দিকে ঘুরে যান। কিবলা পরিবর্তনের এই ঘটনা আল্লাহর নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নেওয়া এবং নামাজের মধ্যেও সঠিক দিক গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সাহাবিদের দ্রুত আনুগত্য তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাবাকে নামাজের কিবলা করা হয়েছে।
- সাহাবিরা নির্ভরযোগ্য সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত নতুন নির্দেশ মেনে নেন।
- আল্লাহর বিধান জানার পর দেরি না করে তা অনুসরণ করা উচিত।
- নামাজে কিবলার দিক গুরুত্বপূর্ণ।
