৪৪/৩. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৬৬ - সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন

সূরা আল-বাক্বারাহ

সাফা-মারওয়া কেন আল্লাহর নিদর্শন: আনাস রাঃ-এর বর্ণনা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৬৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنِ الصَّفَا، وَالْمَرْوَةِ، فَقَالَ كَانَا مِنْ شَعَائِرِ الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا كَانَ الإِسْلاَمُ أَمْسَكْنَا عَنْهُمَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ : ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ) قَالَ هُمَا تَطَوُّعٌ (فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

আসিম আল –আওয়াল (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে সাফা ও মারওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এ দু’টি (পাহাড়) ছিল জাহিলিয়াতের নিদর্শন। ইসলামের আবির্ভাব হলে আমরা এতদুভয়ের মাঝে সাঈ করা হতে বিরত থাকলাম।তখন বরকতময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ “সাফা ও মারওয়া হল আল্লাহ তা’আলার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অতএব বাইতুল্লাহর হজ্জকারী বা উমরাকারী ব্যক্তির জন্য এতদুভয়ের মাঝে তাওয়াফ করাতে কোন সমস্যা নেই”- (সূরা আল –বাক্বারাহঃ ১৫৮)।আনাস (রাঃ) বলেন, এটা হল নফল ইবাদাত।আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করলে আল্লাহ তা’আলা তো গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ”- (সূরা আল –বাক্বারাহ : ১৫৮)।

আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৬৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস ইবনু মালিক রাঃ সাফা-মারওয়ার সাঈ নিয়ে মুসলিমদের আগের দ্বিধার কথা বলেছেন। জাহিলি যুগে এই দুই পাহাড়ের সঙ্গে একটি প্রচলিত রীতি যুক্ত ছিল। ইসলাম আসার পর সাহাবিদের কেউ কেউ তাই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা থেকে বিরত থাকেন। এরপর আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করে জানান যে, সাফা ও মারওয়া তাঁর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। হজ বা উমরা পালনকারী এ দুই স্থানের মাঝে তাওয়াফ বা সাঈ করলে কোনো সমস্যা নেই। বর্ণনার শেষ অংশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভালো কাজ করা এবং আল্লাহর গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ হওয়ার কথাও এসেছে। আনাস রাঃ-এর বক্তব্য হিসেবে এখানে এটিকে নফল ইবাদত বলা হয়েছে। হাদিসটি দেখায়, ইসলামের নির্দেশ জানার পর পুরোনো ভুল ধারণা ছেড়ে আল্লাহর নিদর্শনকে যথাযথভাবে সম্মান করতে হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
  • জাহিলি যুগের সম্পর্কের কারণে আল্লাহর নির্ধারিত আমল ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
  • হজ ও উমরায় সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার কথা আয়াতে এসেছে।
  • স্বতঃস্ফূর্ত সৎকাজ সম্পর্কে আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন