৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৬৫ - সাফা-মারওয়ার সাঈ ও আয়াতের সঠিক অর্থ
সূরা আল-বাক্বারাহ
সাফা-মারওয়ার সাঈ: আয়িশা রাঃ-এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৬৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৬৫
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا أَرَى عَلَى أَحَدٍ لَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ شَيْئًا وَمَا أُبَالِي أَنْ لاَ أَطَّوَّفَ بَيْنَهُمَا. فَقَالَتْ بِئْسَمَا قُلْتَ يَا ابْنَ أُخْتِي طَافَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَطَافَ الْمُسْلِمُونَ وَإِنَّمَا كَانَ مَنْ أَهَلَّ لِمَنَاةَ الطَّاغِيَةِ الَّتِي بِالْمُشَلَّلِ لاَ يَطُوفُونَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : (فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ) وَلَوْ كَانَتْ كَمَا تَقُولُ لَكَانَتْ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا قَالَ الزُّهْرِيُّ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لأَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ فَأَعْجَبَهُ ذَلِكَ وَقَالَ إِنَّ هَذَا لَعِلْمٌ وَلَقَدْ سَمِعْتُ رِجَالاً مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُونَ إِنَّمَا كَانَ مَنْ لاَ يَطَّوَّفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ مِنَ الْعَرَبِ يَقُولُونَ إِنَّ طَوَافَنَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْحَجَرَيْنِ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَقَالَ آخَرُونَ مِنَ الأَنْصَارِ إِنَّمَا أُمِرْنَا بِالطَّوَافِ بِالْبَيْتِ وَلَمْ نُؤْمَرْ بِهِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ ) قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَأُرَاهَا قَدْ نَزَلَتْ فِي هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললাম, যে ব্যক্তি সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ (সাঈ) করেনি আমি তাতে সমস্যা মনে করি না। আমি নিজেও এ দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ না করতে কোন পরোয়া করি না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আমার বোন পুত্র! তুমি যা বললে তা খুবই অন্যায় কথা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ করেছেন, মুসলিমরাও এর তাওয়াফ করেছেন। তবে ‘মুশাল্লাল’ নামক স্থানে স্থাপিত মানাত নামক প্রতিমার নামে যেসব কাফির ইহরাম বাঁধতো তারা সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ করত না।অতঃপর বরকতময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ “যে লোক বাইতুল্লাহর হজ্জ করে বা উমরা করে এই পাহাড়দ্বয়ের মাঝে তাওয়াফ করায় তার কোন সমস্যা নেই”- (সূরা আল –বাক্বারাহঃ ১৫৮)।তোমাদের কথাই যদি সঠিক হত, তাহলে এভাবে বলা হতঃ “ফালা জুনাহা ‘আলাইহি আল –লা ইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা” (এই পাহাড়দ্বয়ের মাঝে তাওয়াফ না করাতে কোন সমস্যা নেই)। যুহরী (রহঃ) বলেন, আমি আবূ বাকর ইবনু ‘আবদুর রাহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশামের নিকট এটি বর্ণনা করলে তিনি খুবই আনন্দিত হন এবং বলেন, এটা তো হল ইলমের (জ্ঞানের) কথা! আমি বহু আলিমকে বলতে শুনেছি, যেসব আরববাসী সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে না তারা বলে, এ দু’টি পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ করা জাহিলী যুগের প্রথা। অপর দিকে কিছু সংখ্যক আনসারী বলত, আমাদেরকে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করার আদেশ করা হয়েছে এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফের আদেশ দেয়া হয়নি।এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত” – (সূরা আল –বাক্বারাহ ১৫৮)।আবূ বাকর ইবনু ‘আব্দুর রাহমান বলেন, আমার মতে উপরোক্ত উভয় দলের প্রসঙ্গেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।
আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাফা-মারওয়ার সাঈ সম্পর্কে একটি ভুল বোঝাবুঝি সংশোধন করা হয়েছে। উরওয়া মনে করেছিলেন, আয়াতে কোনো সমস্যা নেই বলা হয়েছে বলে সাঈ না করলেও অসুবিধা হবে না। আয়িশা রাঃ তাঁর এই কথা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছেন এবং মুসলিমরাও তা করেছেন। আয়াতের ভাষা সাঈ বাদ দেওয়ার অনুমতি নয়। বরং কিছু মানুষ জাহিলি যুগের মানাত প্রতিমার সঙ্গে যুক্ত প্রথার কারণে সাফা-মারওয়ার সাঈ করতে দ্বিধা করত। আবার কিছু আনসার মনে করতেন, তাঁদের শুধু কাবা তাওয়াফের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই দ্বিধা দূর করতেই জানানো হয় যে, সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। হাদিসটি আয়াতের শব্দকে পুরো বক্তব্য ও ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে বুঝতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এবং মুসলিমরা সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছেন।
- আয়াতের কোনো অংশ আলাদা করে ভুল অর্থ করা ঠিক নয়।
- সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
- জ্ঞানীদের কাছে প্রশ্ন করলে ভুল ধারণা সংশোধিত হতে পারে।
