২৫/৮০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৪৫ - উমরায় সাঈর আগে হালাল না হওয়ার শিক্ষা
সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করা প্রসঙ্গে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে।
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا السَّعْيُ مِنْ دَارِ بَنِي عَبَّادٍ إِلَى زُقَاقِ بَنِي أَبِي حُسَيْنٍইবন ‘উমার (রাঃ) বলেন, বনূ ‘আব্বাদ-এর বসতি হতে বনূ আবূ হুসাইন-এর গলি পর্যন্ত সা‘য়ী করবে।"
উমরায় সাফা-মারওয়া সাঈ: রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর আদর্শ অনুসরণ
সহীহ বুখারী : ১৬৪৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬৪৫
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَأَلْنَا ابْنَ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ طَافَ بِالْبَيْتِ فِي عُمْرَةٍ وَلَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ أَيَأْتِي امْرَأَتَهُ فَقَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَطَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا وَصَلَّى خَلْفَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ فَطَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعًا {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ}
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ইব্নু ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, কোন ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে গিয়ে শুধু বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করে, আর সাফা ও মারওয়া সা’ঈ না করে, তার পক্ষে কি স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে? তখন তিনি বললেন, নবী (ﷺ) (মক্কায়) উপনীত হয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ সাত চক্করে সমাধা করে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে দু’ রাক’আত সালাত আদায় করলেন, এরপর সাত চক্করে সাফা ও মারওয়া সা’য়ী করলেন।[এতটুকু বলে ইব্নু ‘উমর (রাঃ) বলেন] “তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”-(আল-আহযাবঃ ২১)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি বাস্তব প্রশ্ন করা হয়েছে। কেউ উমরা করতে গিয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করল, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করল না—তাহলে তার জন্য স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে কি? ইবনু উমর (রাঃ) সরাসরি নিজের মত না বলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল তুলে ধরলেন। তিনি বললেন, নবী صلى الله عليه وسلم মক্কায় এসে সাত চক্কর বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন, মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন, তারপর সাফা-মারওয়া সাত চক্কর সাঈ করেন। এরপর তিনি কুরআনের আয়াত পাঠ করেন যে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তাই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, উমরার আমলে তাওয়াফের পর সাঈকে অবহেলা করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিকহি প্রশ্নে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাজকে মানদণ্ড ধরা হয়েছে।
- উমরায় তাওয়াফের পর সাফা-মারওয়া সাঈর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
- ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজের সুবিধা নয়, রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।
- মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত সালাতের কথাও এই ধারায় এসেছে।
