৬৫/২৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৯৫ - সাফা-মারওয়া সাঈর সঠিক বুঝ

মহান আল্লাহর বাণীঃ

সাফা-মারওয়া সাঈ: আয়িশা (রাঃ)-এর ব্যাখ্যায় আয়াতের সঠিক অর্থ

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৯৫

عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيْثُ السِّنِّ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ﴾إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا﴿ فَمَا أُرَى عَلَى أَحَدٍ شَيْئًا أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَافَقَالَتْ عَائِشَةُ كَلَّا لَوْ كَانَتْ كَمَا تَقُوْلُ كَانَتْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي الْأَنْصَارِ كَانُوْا يُهِلُّوْنَ لِمَنَاةَ وَكَانَتْ مَنَاةُ حَذْوَ قُدَيْدٍ وَكَانُوْا يَتَحَرَّجُوْنَ أَنْ يَطُوْفُوْا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلَامُ سَأَلُوْا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللهُ ﴾إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا﴿.

‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম আর তখন আমি অল্প বয়সের ছিলাম। মহান আল্লাহ্‌র বাণী ঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়াহ হল আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা‘বা ঘরে হজ্জ বা ‘উমরাহ পালন করে তার পক্ষে এ দু‘টির মধ্যে প্রদক্ষিণ করাতে কোন পাপ নেই” (সূরা আল-বাকারাহ ২/১৫৮)। আমি মনে করি উক্ত দুই পর্বত সায়ী না করলে কোন ব্যক্তির উপর গুনাহ বর্তাবে না।তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, কক্ষনো তা নয়। তুমি যা বলছ যদি তাই হত তাহলে বলা হত এভাবে فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ “উভয় পর্বত তাওয়াফ না করাতে কোন গুনাহ বর্তাবে না। বস্তুতঃ এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের ব্যাপারে। তারা ‘মানাত’-এর পূজা করত। আর ‘মানাত’ ছিল কুদায়েদের পথে অবস্থিত। আনসারগণ সাফা এবং মারওয়াহ্‌র মধ্যে সায়ী করা খারাপ জানত। ইসলামের আগমনের পর তারা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল।তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৯৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ‘উরওয়া (রহ.) অল্প বয়সে আয়িশা (রাঃ)-কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তিনি আয়াতের ভাষা দেখে মনে করেছিলেন, সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ না করলেও হয়তো গুনাহ নেই। আয়িশা (রাঃ) তাঁর এই বুঝ সংশোধন করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি এমন হলে আয়াতে বলা হতো, “তাওয়াফ না করাতে কোনো গুনাহ নেই।” এরপর তিনি জানান, আয়াতটি আনসারদের বিষয়ে নাযিল হয়েছিল। তারা আগে মানাতের জন্য ইহরাম করত এবং সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ করা নিয়ে সংকোচ বোধ করত। ইসলাম আসার পর তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন যে সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদিস শেখায়, আয়াত বোঝার জন্য সাহাবীদের ব্যাখ্যা কত গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআনের আয়াত বুঝতে সাহাবীদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
  • সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
  • আয়াতের শব্দ দেখে ভুল ধারণা হলে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞেস করা দরকার।
  • ইসলাম আগের ভুল ধারণা দূর করে সঠিক আমল পরিষ্কার করেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন