৪৪/৩. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৬৮ - রোজার রাতে পানাহারের অনুমতি

সূরা আল-বাক্বারাহ

রোজার রাতে পানাহার: ফজর পর্যন্ত সাহরির অনুমতি

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৬৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ بْنِ يُونُسَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ ﷺ إِذَا كَانَ الرَّجُلُ صَائِمًا فَحَضَرَ الإِفْطَارُ فَنَامَ قَبْلَ أَنْ يُفْطِرَ لَمْ يَأْكُلْ لَيْلَتَهُ وَلاَ يَوْمَهُ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنَّ قَيْسَ بْنَ صِرْمَةَ الأَنْصَارِيَّ كَانَ صَائِمًا فَلَمَّا حَضَرَهُ الإِفْطَارُ أَتَى امْرَأَتَهُ فَقَالَ هَلْ عِنْدَكِ طَعَامٌ قَالَتْ لاَ وَلَكِنْ أَنْطَلِقُ فَأَطْلُبُ لَكَ.وَكَانَ يَوْمَهُ يَعْمَلُ فَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ وَجَاءَتْهُ امْرَأَتُهُ فَلَمَّا رَأَتْهُ قَالَتْ خَيْبَةً لَكَ. فَلَمَّا انْتَصَفَ النَّهَارُ غُشِيَ عَلَيْهِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : ( أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ ) فَفَرِحُوا بِهَا فَرَحًا شَدِيدًا : (فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ).قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের এ নিয়ম ছিল যে, কোন রোজাদার ইফতারের পূর্বে ঘুমিয়ে পড়লে তিনি সেই রাত ও পরবর্তী দিনে কিছু খেতেন না, এভাবে পরবর্তী সন্ধ্যা পর্যন্ত অভুক্ত থাকতেন। একবার ক্বাইস ইবনু সিরমাহ আল –আনসারী (রাঃ) রোজা অবস্থায় ছিলেন। ইফতারের সময় উপস্থিত হলে তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে বললেন, কোন খাবার আছে কি? তাঁর স্ত্রী বললেন, না। তবে আমি আপনার জন্য কিছু খুঁজে আনতে যাচ্ছি। কাইস (রাঃ) ঐ দিন কায়িক পরিশ্রম করেছিলেন। তাই তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তাঁর স্ত্রী এসে তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বললেন, আপনার জন্য আফসোস! পরবর্তী দিন দুপুর হলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।এ ঘটনা নবী (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করা হলে তখন নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “রোজার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হল” (সূরাঃ আল –বাক্বারাহঃ ১৮৭)।এতে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।আয়াতের শেষাংশ নিম্নরূপ (অনুবাদ) : “রাতের কালো রেখা হতে ভোরের সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর” – (সূরা আল –বাক্বারাহ : ১৮৭)

আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৬৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রোজার শুরুর সময়ের একটি কঠিন নিয়ম এবং পরে দেওয়া সহজতার কথা এসেছে। তখন কোনো রোজাদার ইফতারের আগে ঘুমিয়ে পড়লে পরবর্তী সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর জন্য পানাহার করা হতো না। কাইস ইবনু সিরমাহ আল-আনসারি রাঃ সারাদিন শারীরিক পরিশ্রম করেছিলেন। ইফতারের সময় খাবার না থাকায় তাঁর স্ত্রী খাবার খুঁজতে যান। এর মধ্যে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন দুপুরে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। ঘটনাটি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জানানো হলে রোজার রাতে স্ত্রীদের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বৈধ হওয়ার আয়াত নাজিল হয়। একই আয়াতে ভোরের সাদা রেখা রাতের কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত পানাহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে সাহাবিরা খুব আনন্দিত হন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রোজার রাতে ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত পানাহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
  • রোজার রাতে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের অনুমতিও আয়াতে এসেছে।
  • কঠিন আগের নিয়ম সহজ হওয়ায় সাহাবিরা আনন্দিত হয়েছিলেন।
  • শরীরের কষ্টের ঘটনা আল্লাহর দেওয়া সহজতার কারণ হয়েছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন