২/১১২. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৯ - যাল জালালি দোয়ার ভিন্ন শব্দ

সালাম ফিরানোর পর যা বলবে

ইয়া যাল জালালি: সালামের পর দোয়ার আরেক বর্ণনা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৯

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَقَالَ «تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ» . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ ثَوْبَانَ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى خَالِدٌ الْحَذَّاءُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ نَحْوَ حَدِيثِ عَاصِمٍ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ بَعْدَ التَّسْلِيمِ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ " . وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ «سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلاَمٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ» .

আসিম আল আহওয়াল (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আসিম আল-আহওয়াল হতে উপরের হাদীসের মতই বর্ণিত হয়েছে। শুধু ‘যাল-জালালি’ শব্দের পূর্বে ‘ইয়া’ (হে) শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।

এ অনুচ্ছেদে সাওবান, ইবনু ‘উমার, ইবনু ‘আব্বাস, আবূ সা’ঈদ, আবূ হুরায়রা ও মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ‘আয়িশাহ্’র হাদীসটি হাসান সহীহ্‌। খালিদ আল-হায্‌যা ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) হতে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হারিসের সূত্রে ‘আসিমের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে আরো বর্ণিত হয়েছে, তিনি সালাম ফিরানোর পর এ দোয়া পাঠ করতেনঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শারীক নেই, (মহাবিশ্বের) রাজত্ব তাঁরই হাতে, তাঁর জন্য সকল প্রশংসা। তিনিই হায়াত দেন, তিনিই মউত দেন, তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যাকে দান কর তা প্রতিরোধ করার শক্তি কারো নেই; তুমি যার প্রতিবন্ধক হও তাকে কেউ দান করতে পারে না এবং কোন চেষ্টা-তদবিরকারীই তার চেষ্টার মাধ্যমে তোমার নিকট হতে মঙ্গল ছিনিয়ে নিতে সমর্থ নয়”।অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলতেনঃ “তারা যা বলে থাকে তা থেকে আপনার রব, যিনি মহা মহিমান্বিত সকল ক্ষমতার মালিক, মহান পবিত্র। সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের প্রতি। সকল প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই”। (সূরাঃ আস-সাফফাত-১৮০)

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আগের দোয়ার মতোই সালামের পরের দোয়ার বর্ণনা এসেছে। পার্থক্য হলো, এখানে ‘যা-ল-জালালি’ শব্দের আগে ‘ইয়া’ শব্দটি অতিরিক্ত এসেছে: “তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।” অর্থের দিক থেকে এটি আল্লাহকে সম্মান ও মর্যাদার মালিক হিসেবে সম্বোধন করার সুন্দর ভঙ্গি। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, হাদিসের শব্দগুলো মনোযোগ দিয়ে শেখা দরকার। কখনও একই দোয়ার কাছাকাছি শব্দে বর্ণনা আসে, আর সেগুলো সংরক্ষিত থাকে। নামাজ শেষে দোয়া, আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, সালামের পর জিকির—এসব বিষয়ে এই হাদিস খুব প্রাসঙ্গিক। এখানে মূল শিক্ষা হলো সালামের পর আল্লাহর শান্তি, বরকত ও মহিমা স্মরণ করা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • একই দোয়ার বর্ণনায় শব্দের সামান্য ভিন্নতা এসেছে।
  • ‘ইয়া যাল জালালি’ বলে আল্লাহকে সম্মানিতভাবে ডাকা হয়েছে।
  • সালামের পর দোয়া ও জিকিরের শিক্ষা রয়েছে।
  • হাদিসের শব্দ শেখার সময় সূক্ষ্ম পার্থক্যও খেয়াল করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন