৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৯২ - আমরা শুনলাম ও মানলাম: ঈমান ও দোয়ার শিক্ষা
সূরা আল-বাক্বারাহ
শুনলাম ও মানলাম—সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলোর হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৯২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৯২
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ آدَمَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُْ : (إِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ ) قَالَ دَخَلَ قُلُوبَهُمْ مِنْهُ شَيْءٌ لَمْ يَدْخُلْ مِنْ شَيْءٍ فَقَالُوا لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ «قُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا» . فَأَلْقَى اللَّهُ الإِيمَانَ فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : (آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ) الآيَةَ : ( لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لاَ تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ) قَالَ «قَدْ فَعَلْتُ» (رَبَّنَا وَلاَ تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا ) قَالَ «قَدْ فَعَلْتُ» . (رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ) الآيَةَ قَالَ «قَدْ فَعَلْتُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَآدَمُ بْنُ سُلَيْمَانَ هُوَ وَالِدُ يَحْيَى بْنِ آدَمَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضى الله عنه .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন “তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ আল্লাহ তা’আলা তোমাদের নিকট হতে তার হিসাব গ্রহণ করবেন”- (সূরা বাক্বারাহ ২৮৪) এ আয়াত অবতীর্ণ হয়, তখন মানুষদের অন্তরে এরূপ একটা জিনিস (আশঙ্কা ও খটকা) সৃষ্টি হয় যা অন্য কিছুতে সৃষ্টি হয়নি। তাই তারা নবী (ﷺ)-কে এ ব্যাপারে জানালেন। তিনি বললেনঃ তোমরা বল “আমরা শুনলাম ও অনুগত্য করলাম”। এতে আল্লাহ তা’আলা তাদের অন্তরে ঈমান ঢেলে দিলেন।তারপর কল্যাণময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেন : “রাসূল ঈমান এনেছে তার প্রতি তার প্রভুর পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুমিনগণও…..” – (সূরা আল –বাক্বারাহ ২৮৫)।“আল্লাহ তা’আলা কারো উপর তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপান না। সে ভালো যা করে তা তারই এবং মন্দ যা করে তাও তারই। হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা অন্যায় করে ফেলি, তবে তুমি আমাদের (অপরাধীরূপে) পাকড়াও করো না” – (সূরা আল –বাক্বারাহ ২৮৬)।আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি তা করলাম। “হে আমাদের প্রভু! আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না”। আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি কবুল করলাম। “হে আমাদের প্রভু! আমাদের উপর এমন ভার অর্পণ করো না, যা বহনের শক্তি আমাদের নেই। আমাদের গুনাহ মোচন কর, আমাদের ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের জয়যুক্ত কর” –(সূরা আল –বাক্বারাহঃ ২৮৬)। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আমি কবুল করলাম।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ) হতে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আদম ইবনু সুলাইমান প্রসঙ্গে কথিত আছে যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু আদমের বাবা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আল-বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাজিল হওয়ার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। মানুষের মনে যা আছে তা প্রকাশ করা হোক বা গোপন রাখা হোক, তার হিসাব নেওয়ার আয়াত নাজিল হলে সাহাবিদের অন্তরে প্রবল ভয় সৃষ্টি হয়। তাঁরা বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান। তিনি তাঁদের বলতে শেখান, ‘আমরা শুনলাম ও অনুগত্য করলাম।’ এই আনুগত্যের পর আল্লাহ তাঁদের অন্তরে ঈমান দৃঢ় করেন এবং পরের আয়াতগুলো নাজিল করেন। সেখানে বলা হয়, আল্লাহ কাউকে সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। ভুলে যাওয়া, অনিচ্ছাকৃত ভুল, কঠিন বোঝা, অসহনীয় দায়িত্ব, ক্ষমা ও রহমত থেকে রক্ষার দোয়াগুলোর জবাবে আল্লাহ কবুলের কথা জানান। হাদিসটি শেখায়, কঠিন কোনো নির্দেশ বুঝতে ভয় লাগলেও বিদ্রোহ নয়; ঈমান, আনুগত্য, দোয়া এবং আল্লাহর রহমতের আশ্রয়ই মুমিনের পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন নির্দেশ শুনলেও ‘শুনলাম ও মানলাম’ মনোভাব রাখা উচিত।
- আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।
- ভুল, ভার, ক্ষমা ও রহমতের জন্য দোয়া করতে শেখানো হয়েছে।
- ভয় ও উদ্বেগের সময় ঈমান, আনুগত্য ও দোয়া একসঙ্গে প্রয়োজন।
