৪৪/৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৯৪ - মুতাশাবিহ আয়াতের অনুসারীদের থেকে সতর্ক থাকুন
সূরা আলে ইমরান
কুরআনের মুতাশাবিহ আয়াত নিয়ে ফিতনা: কাদের এড়িয়ে চলবেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৯৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৯৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ : ( هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ سَمَّاهُمُ اللَّهُ فَاحْذَرُوهُمْ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَرُوِيَ عَنْ أَيُّوبَ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ هَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَإِنَّمَا ذَكَرَ يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التُّسْتَرِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ . وَابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ سَمِعَ مِنْ عَائِشَةَ أَيْضًا .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এ আয়াত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হলঃ “তিনিই তোমাদের উপর এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কিছু আয়াত মুহকাম, এগুলো কিতাবের মূল এবং অন্যগুলো মুতাশাবিহাত। যাদের মনে কুটিলতা আছে, তারাই ফিতনা সৃষ্টি এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে …. শুধু বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই শিক্ষা গ্রহণ করে” – (সূরা আলি ইমরান ৭)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কোরআনের মুতাশাবিহ আয়াতসমূহের অনুসারীদের দেখলে অনুধাবন করে নিবে যে, আল্লাহ তা’আলা এদেরই নামোল্লেখ করেছেন। কাজেই তোমরা তাদের পরিহার করবে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আইয়ূব (রহঃ) এর বরাতে ইবনু আবূ মুলাইকাহ সূত্রেও আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী একই রকম বর্ণনা করেছেন। তারা তাতে “আল –কাসিম ইবনু মুহাম্মদ হতে’ এ কথাটি উল্লেখ করেননি। ইয়াযীদ ইবনু ইবরাহীমই এ হাদীসে “আল –কাসিম ইবনু মুহাম্মদ”-এর নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু আবী মুলাইকাহ হলেন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী মুলাইকাহ। তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট হতেও হাদীস শুনেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আলে ইমরানের ৭ নম্বর আয়াতের আলোকে কুরআন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। কুরআনের কিছু আয়াত মুহকাম বা স্পষ্ট, যেগুলো কিতাবের মূল। অন্য কিছু আয়াত মুতাশাবিহ। যাদের মনে কুটিলতা আছে, তারা স্পষ্ট আয়াতের পথ অনুসরণ না করে মুতাশাবিহ অংশ নিয়ে ফিতনা সৃষ্টি এবং ভুল ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, এমন লোকদের দেখলে বুঝতে হবে, আয়াতে আল্লাহ তাদের কথাই বলেছেন; তাই তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। হাদিসটির শিক্ষা হলো, কুরআনের কোনো একটি জটিল অংশ আলাদা করে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা নিরাপদ পদ্ধতি নয়। স্পষ্ট আয়াতকে ভিত্তি ধরে পুরো বক্তব্য বুঝতে হবে। কেউ যদি বারবার অস্পষ্ট বিষয় সামনে এনে সন্দেহ, বিরোধ বা বিভ্রান্তি তৈরি করে, তার আলোচনা থেকে দূরে থাকা উচিত। তবে ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে কাউকে এই সতর্কতার আওতায় ফেলাও ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুহকাম আয়াত কুরআনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
- মুতাশাবিহ আয়াত দিয়ে ফিতনা ছড়ানো লোকদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- কুরআন বুঝতে বিচ্ছিন্ন নয়, সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
- সত্য জানার ইচ্ছা ও বিতর্ক তৈরির ইচ্ছা এক নয়।
