৪৪/৪. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০০৬ - তাওবার নামাজ ও গুনাহ মাফ

সূরা আলে ইমরান

তাওবার নামাজ: গুনাহের পর ক্ষমা চাওয়ার সঠিক পথ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০০৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ إِنِّي كُنْتُ رَجُلاً إِذَا سَمِعْتُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعَنِي وَإِذَا حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ اسْتَحْلَفْتُهُ فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ وَإِنَّهُ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَقُومُ فَيَتَطَهَّرُ ثُمَّ يُصَلِّي ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلاَّ غَفَرَ لَهُ " . ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ : ﴾وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ قَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَرَفَعُوهُ وَرَوَاهُ مِسْعَرٌ وَسُفْيَانُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَلَمْ يَرْفَعَاهُ وَقَدْ رَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مِسْعَرٍ فَأَوْقَفَهُ وَرَفَعَهُ بَعْضُهُمْ وَرَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَأَوْقَفَهُ وَلاَ نَعْرِفُ لأَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ حَدِيثًا إِلاَّ هَذَا .

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি এমন লোক ছিলাম যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কোন হাদীস শুনলে আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছায় আমি তার দ্বারা প্রভূত উপকৃত হতাম। আর আমার নিকট তাঁর কোন সাহাবী হাদীস বর্ণনা করলে আমি তাকে শপথ করতে বলতাম। আমার কথায় তিনি শপথ করলে, আমি তার সত্যতা স্বীকার করতাম। অতএব আবূ বাকর (রাঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেন। বলা বাহুল্য, আবূ বাকর (রাঃ) সত্য কথাই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি : কোন লোক যদি গুনাহ করার পর পবিত্রতা অর্জন করে নামাজ আদায় করে, তারপর আল্লাহ তা’আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তবে তাকে আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।তারপর তিনি এ আয়াত পড়েন (অনুবাদ) : “যাদের অবস্থা এমন যে, তারা কখনো অশ্লীল কর্ম করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে পরে আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (তাদেরকে ক্ষমা করা হয়)। আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত কে গুনাহ মাফ করতে পারে? আর তারা যা করে ফেলেছে জ্ঞাতসারে তার পুনরাবৃত্তি করে না”- (সূরা আ-লি ‘ইমরান ১৩৫)।

আবূ ‘‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি ‘উসমান ইবনুল মুগীরাহ (রহঃ) এর সূত্রে শু’বাহ প্রমুখ বর্ণনাকারীগণ মারফূ’রূপে বর্ণনা করেছেন। মিস’আর ও সুফইয়ানও ‘উসমান ইবনুল মুগীরার সূত্রে এটি রিওয়ায়াত করেছেন, তবে মারফূ হিসেবে নয়। কিছু বর্ণনাকারী এই হাদীসটি মিস’আর হতে মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর কিছু বর্ণনাকারী মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুফইয়ান সাওরী তা ‘উসমান ইবনুল মুগীরাহ হতে মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীস ব্যতীত আসমা ইবনুল হাকাম কর্তৃক বর্ণিত আর কোন হাদীস আমাদের জানা নেই।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০০৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার একটি পরিষ্কার পথ শেখানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি গুনাহ করার পর পবিত্রতা অর্জন করবে, সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানিয়েছেন, এভাবে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। এরপর সূরা আলে ইমরান ১৩৫ নম্বর আয়াত পড়া হয়। আয়াতে এমন মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা অশ্লীল কাজ বা নিজেদের ওপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে, গুনাহের ক্ষমা চায় এবং জেনে-বুঝে সেই কাজে অটল থাকে না। তাই তাওবার নামাজ শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার বিষয় নয়। এতে পবিত্রতা, সালাত, ইস্তিগফার এবং গুনাহে জেনে-বুঝে পড়ে না থাকার শিক্ষা রয়েছে। ভুলের পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই এই হাদিসের মূল বার্তা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গুনাহের পর পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করে ক্ষমা চাইতে হয়।
  • গুনাহ মাফ করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর।
  • সত্যিকারের তাওবার অংশ হলো জেনে-বুঝে গুনাহের পুনরাবৃত্তিতে অটল না থাকা।
  • ভুলের পর হতাশ না হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন