৪৪/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২৭ - রাসূলের বিচার মেনে নেওয়া ও পানির অধিকার
সূরা আন-নিসা
রাসূলের বিচার মেনে নেওয়া: সেচের পানি নিয়ে ন্যায়বিচারের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০২৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০২৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ . فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرُّ فَأَبَى عَلَيْهِ فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِلزُّبَيْرِ " اسْقِ يَا زُبَيْرُ وَأَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ " . فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ وَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ . فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ " يَا زُبَيْرُ اسْقِ وَاحْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ " . فَقَالَ الزُّبَيْرُ وَاللَّهِ إِنِّي لأَحْسِبُ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي ذَلِك : (فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ ) الآيَةَ.قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ قَدْ رَوَى ابْنُ وَهْبٍ هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَيُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ. وَرَوَى شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنِ الزُّبَيْرِ وَلَمْ يَذْكُرْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ .
'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কংকরময় হাররা এলাকার একটি (পানিসেচের) নালা নিয়ে এক আনসারীর সাথে তার ঝগড়া বাধে। উক্ত নালার মাধ্যমে তারা খেজুর বাগানে পানি দিতেন। আনসারী বললেন, পানি আসতে নালাটি আপনি ছেড়ে দিন। যুবাইর (রাঃ) তা মানলেন না। দুজনেই বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবাইর (রাঃ) কে বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার বাগানে পানি দিয়ে তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দিও। এতে আনসারী ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইনি আপনার ফুফাতো ভাই বলেই (এরূপ ফয়সালা করছেন)। এ কথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ হে যুবাইর! তুমি তোমার বাগানের পানি প্রবাহিত করে আলগুলো পর্যন্ত পানি জমা না হওয়া পর্যন্ত নালা অন্যত্র প্রবাহিত হতে দিবে না।যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় এ ঘটনা প্রসঙ্গেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) : “কিন্তু না, তোমার প্রভুর শপথ! তারা ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে….” (সূরা আন –নিসা ৬৫)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, আমি মুহাম্মদ (বুখারী)- কে বলতে শুনেছি, ইবনু ওয়াহব (রহঃ) এ হাদীসটি লাইস ইবনু সা’দ হতে এবং ইউনুস (রহঃ) যুহরী হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) হতে, এই সূত্রে উক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। অপর দিকে শু’আইব ইবনু আবী হামযাহ (রহঃ) যুহরী হতে, তিনি ‘উরওয়াহ হতে, তিনি যুবাইর (রাঃ) হতে, এই সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন, কিন্তু তাতে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) এর উল্লেখ করেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ন্যায়বিচার। একটি সেচের নালা নিয়ে যুবাইর (রাঃ) ও এক আনসারীর বিরোধ হয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে এমন সমাধান দেন, যাতে যুবাইর নিজের বাগানে পানি দিয়ে পরে প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দেন। এটি ছিল সহজ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ফয়সালা। কিন্তু আনসারী ব্যক্তি আত্মীয়তার কারণে পক্ষপাতের অভিযোগ করলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চেহারা বদলে যায়। এরপর তিনি যুবাইরকে তাঁর পূর্ণ অধিকার অনুযায়ী বাগানের আল পর্যন্ত পানি ধরে রাখতে বলেন। যুবাইর (রাঃ) মনে করেন, এ ঘটনার সঙ্গে সেই আয়াতের সম্পর্ক আছে যেখানে বলা হয়েছে—মানুষ নিজেদের বিরোধে রাসূলকে বিচারক না মানা এবং তাঁর ফয়সালায় অন্তরে সংকোচ রাখলে পূর্ণ ঈমানের দাবি পূরণ হয় না। হাদিসটি শেখায়, বিরোধে ন্যায়সঙ্গত বিচার চাইতে হবে, প্রমাণ ছাড়া পক্ষপাতের অভিযোগ করা উচিত নয় এবং রাসূলের সিদ্ধান্ত আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবেশীর অধিকারও রক্ষা করতে হবে, তবে কারও বৈধ অধিকার অন্যায়ভাবে অস্বীকার করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিরোধের সমাধানে ন্যায়সঙ্গত বিচার গ্রহণ করতে হবে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ফয়সালার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন পক্ষপাতের অভিযোগ করা গুরুতর বিষয়।
- নিজের অধিকার নেওয়ার পর প্রতিবেশীর প্রয়োজনের দিকেও খেয়াল রাখা উচিত।
- সত্যিকারের গ্রহণযোগ্যতা শুধু মুখে নয়, অন্তরেও থাকা দরকার।
