৪৪/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২৬ - নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ নিষেধ ও সচেতন তিলাওয়াত
সূরা আন-নিসা
নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ নয়: তিলাওয়াতে সচেতনতার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০২৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০২৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ صَنَعَ لَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ طَعَامًا فَدَعَانَا وَسَقَانَا مِنَ الْخَمْرِ فَأَخَذَتِ الْخَمْرُ مِنَّا وَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَقَدَّمُونِي فَقَرَأْتُ : ( قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ) لاَ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ وَنَحْنُ نَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ. قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَقْرَبُوا الصَّلاَةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ.
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) আমাদের জন্য খাবারের আয়োজন করলেন এবং আমাদেরকে দাওয়াত করে শরাব পান করান। আমাদেরকে এই শরাবের নেশায় ধরে। ইতোমধ্যে নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায়। লোকজন আমাকেই ইমামতি করতে এগিয়ে দেয়। আমি পাঠ করলাম : “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন। লা আ’বুদু মা তা’বুদূন। ওয়া নাহনু না’বুদু মা তা’বুদূন”। অর্থাৎ “ওয়ালা নাবুদু” (তোমরা যাদের ইবাদাত কর আমরা তাদের ইবাদাত করি না)-এর স্থলে আমি “ওয়া নাহনু না’বুদু মা তা’বুদূন” (তোমরা যাদের ইবাদাত কর, আমরাও তাদের ইবাদাত করি) পড়ে ফেললাম।তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের নিকটেও যেয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার” (সূরা আন –নিসা ৪৩)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২৬-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: নেশা ও নামাজ। এই বর্ণনায় একটি খাবারের দাওয়াতে শরাব পান করার পর কয়েকজন সাহাবির ওপর নেশা প্রভাব ফেলেছিল। নামাজের সময় হলে আলী (রাঃ)-কে ইমাম করা হয়। তিনি সূরা আল-কাফিরুন পড়তে গিয়ে এমন ভুল করেন, যাতে আয়াতের অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যায়। এরপর যে আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কথা এসেছে, সেখানে ঈমানদারদের বলা হয়—নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে পার কী বলছ। হাদিসটির সরাসরি শিক্ষা হলো, নামাজ সচেতনতা, বোঝাপড়া এবং সঠিক তিলাওয়াতের ইবাদত। এমন অবস্থায় নামাজে দাঁড়ানো ঠিক নয়, যখন মানুষ নিজের কথাই বুঝতে পারে না। কুরআনের শব্দ বদলে গেলে অর্থও বদলে যেতে পারে—এই ঘটনাটি তার স্পষ্ট উদাহরণ। তাই নামাজের আগে মানসিক উপস্থিতি, উচ্চারণে সতর্কতা এবং আল্লাহর সামনে কী বলা হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
- নামাজে কী বলা হচ্ছে তা বোঝার মতো সচেতন থাকা দরকার।
- কুরআনের শব্দের ভুল অর্থ বদলে দিতে পারে।
- ইমামতি ও তিলাওয়াতে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
