৪৪/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৩৪ - সফরে কসর নামাজ আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহ
সূরা আন-নিসা
সফরে কসর নামাজ: আল্লাহর দেওয়া সদাকাহ গ্রহণ করুন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৩৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৩৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَاهُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِنَّمَا قَالَ اللَّهُ : ﴾ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلاَةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا ﴿ وَقَدْ أَمِنَ النَّاسُ . فَقَالَ عُمَرُ عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘উমর (রাঃ) কে বললাম, আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “তোমরা যখন শত্রুর আশঙ্কা করবে তখন নামায কসর করবে” – (সূরা আন –নিসা ১০১)। এখন তো মানুষ নিরাপদ ও ভীতিমুক্ত হয়ে গেছে (এখন নামা কসর করার কি প্রয়োজন)। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তুমি যে বিষয়ে বিস্ময়বোধ করছ, আমিও একই বিষয়ে বিস্ময়বোধ করেছি এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উত্থাপন করেছি। তিনি বলেছেনঃ এটা তো তোমাদের জন্য আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে সাদাক্বাহ্। অতএব তোমরা তাঁর সাদাক্বাহ্ (অনুগ্রহ) গ্রহণ কর।
আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৩৪-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: কসর নামাজ। ইয়ালা ইবনু উমাইয়া (রাঃ) উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেছিলেন, কুরআনের আয়াতে তো শত্রুর ভয় থাকলে নামাজ কসর করার কথা আছে; এখন মানুষ নিরাপদ হলে কসর কেন থাকবে? উমর (রাঃ) জানান, তিনিও একই প্রশ্ন করেছিলেন এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে তুলেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) উত্তর দেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য একটি সদাকাহ বা অনুগ্রহ; তাই তাঁর সদাকাহ গ্রহণ করো। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহ যে সহজতা দিয়েছেন তা অযথা কঠিন মনে করে প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। সফরের কসর নামাজকে এখানে কেবল ভয়ভিত্তিক ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া বিশেষ ছাড় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্ণনায় কসরের দূরত্ব, সময় বা বিস্তারিত পদ্ধতি বলা হয়নি; তাই ব্যাখ্যাও সেই সীমার মধ্যে থাকা উচিত। সরাসরি বার্তা হলো—সফরে শরিয়তের অনুমোদিত সহজতাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কসর নামাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া অনুগ্রহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- নিরাপদ অবস্থাতেও এই ছাড় গ্রহণের নির্দেশ এসেছে।
- আল্লাহর দেওয়া সহজতাকে অযথা প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।
- হাদিসে কসরের বিস্তারিত শর্ত নয়, মূল নীতি ও অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে।
