৪৪/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৩১ - অক্ষম মুমিনের জন্য ছাড় ও ওহি লিখে রাখার ঘটনা
সূরা আন-নিসা
অক্ষমদের জন্য ছাড়: ইবন উম্মি মাকতুম ও সূরা নিসা ৯৫
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৩১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৩১
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ : ﴾لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿ جَاءَ عَمْرُو ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ - قَالَ وَكَانَ ضَرِيرَ الْبَصَرِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَأْمُرُنِي إِنِّي ضَرِيرُ الْبَصَرِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى هَذِهِ الآيَةَ : ﴾ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ ) الآيَةَ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " ائْتُونِي بِالْكَتِفِ وَالدَّوَاةِ أَوِ اللَّوْحِ وَالدَّوَاةِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَيُقَالُ عَمْرُو ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَيُقَالُ عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَهُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَائِدَةَ وَأُمُّ مَكْتُومٍ أُمُّهُ .
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা সমান নয়” – (সূরা আন –নিসা ৯৫) আয়াত অবতীর্ণ হলে ‘আম্র ইবনু উম্মি মাকতূম (রাঃ) নবী (ﷺ)- এর নিকট আসলেন। তিনি ছিলেন দৃষ্টিশক্তিহীন (অন্ধ)। তিনি বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! আমি তো দৃষ্টিশক্তিহীন। আমাকে আপনি কি নির্দেশ দেন?তখন আল্লাহ তা’আলা নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) : “তবে যারা অক্ষম তাদের কথা স্বতন্ত্র” – (সূরা আন –নিসা ৯৫)।নবী (ﷺ) বললেনঃ (আয়াতটি লিপিবদ্ধ করতে) তোমরা আমার জন্য কাঁধের হাড় ও দোয়াত অথবা (বললেন) তখতি ও দোয়াত নিয়ে এসো।
‘আমর ইবনু উম্মি মাকতূম (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উম্মি মাক্তূম বলেও কথিত। তিনি হলেন ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদাহ্ এবং উম্মি মাকতূম তাঁর মা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৩১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: অক্ষমতার ছাড়। ‘মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা সমান নয়’—এই আয়াত অবতীর্ণ হলে দৃষ্টিহীন আমর ইবন উম্মি মাকতুম (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন। তিনি নিজের অন্ধত্বের কথা জানিয়ে নির্দেশ জানতে চান। এরপর ‘তবে যারা অক্ষম তাদের কথা আলাদা’—এই অংশ অবতীর্ণ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) সঙ্গে সঙ্গে আয়াতটি লিখে রাখার জন্য কাঁধের হাড় ও দোয়াত, অথবা তক্তি ও দোয়াত আনতে বলেন। হাদিসটি দেখায়, দায়িত্বের ক্ষেত্রে বাস্তব অক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। যারা সক্ষম হয়েও দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে থাকে, তাদের সঙ্গে প্রকৃত অক্ষম ব্যক্তিকে একভাবে দেখা হয়নি। একই সঙ্গে ওহি নাজিল হওয়ার পর তা লিখে সংরক্ষণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দৃশ্যও এখানে পাওয়া যায়। তাই এই হাদিসের শিক্ষা হলো, মানুষের সীমাবদ্ধতাকে বুঝতে হবে, অক্ষম ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে দোষ দেওয়া যাবে না এবং আল্লাহর নির্দেশ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও মানার চেষ্টা করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাস্তব অক্ষমতার জন্য আলাদা বিবেচনা রয়েছে।
- সক্ষম ও অক্ষম ব্যক্তিকে একই মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়।
- ইবন উম্মি মাকতুম (রাঃ) নিজের অবস্থা খোলাখুলি জানিয়ে নির্দেশ চেয়েছেন।
- ওহি নাজিল হওয়ার পর তা দ্রুত লিখে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
