৪৪/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২৫ - অন্যের কুরআন তিলাওয়াত শুনে নবীজির অশ্রু
সূরা আন-নিসা
অন্যের কণ্ঠে কুরআন শোনা: নবীজির অশ্রুসিক্ত তিলাওয়াত শ্রবণ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০২৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০২৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " اقْرَأْ عَلَىَّ ". فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ " إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي ". فَقَرَأْتُ سُورَةَ النِّسَاءِ حَتَّى إِذَا بَلَغْتُ : (جِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا ) قَالَ فَرَأَيْتُ عَيْنَىِ النَّبِيِّ ﷺ تَهْمِلاَنِ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الأَحْوَصِ.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমাকে কোরআন হতে তিলাওয়াত করে শুনাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপরই তো কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, আর আমি আপনাকে তা তিলাওয়াত করে শুনাব! তিনি বললেনঃ অন্যের তিলাওয়াত শুনতে আমি পছন্দ করি। অতএব আমি সূরা আন –নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। আমি পাঠ করতে করতে যখন (অনুবাদ) : “এবং আমি তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব”, তখন নবী (ﷺ) এর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তাঁর দুই চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ রিওয়ায়াতটি আবুল আহওয়াসের হাদীসের তুলনায় অনেক বেশী সহীহ। সুওয়াইদ ইবনু নাসর-ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আমাশ (রহঃ) হতে মু’আবিয়াহ ইবনু হিশামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: কুরআন শ্রবণ। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বললেন, তাঁকে কুরআন পড়ে শোনাতে। তিনি বিস্মিত হয়ে বললেন, কুরআন তো আপনার ওপরই নাজিল হয়েছে, আমি কীভাবে আপনাকে শুনাব? নবী (صلى الله عليه وسلم) জানালেন, তিনি অন্যের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করেন। এরপর সূরা আন-নিসা পাঠ করা হলো। যখন সেই আয়াতে পৌঁছানো হলো, যেখানে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করার কথা আছে, তখন তাঁর দুই চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এই হাদিস কুরআন শোনার আলাদা সৌন্দর্য শেখায়। নিজে পড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যের সুন্দর ও মনোযোগী তিলাওয়াত শুনেও আয়াতের অর্থ হৃদয়ে নেওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কান্না দেখায়, আখিরাতের দায়িত্ব ও সাক্ষ্যের আয়াত তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। তাই কুরআন শ্রবণকে শুধু সুর শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থ, সতর্কতা ও শিক্ষার দিকে মন দেওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শোনা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পছন্দ ছিল।
- কুরআনের অর্থ হৃদয়ে নিলে তা চোখে অশ্রু আনতে পারে।
- আখিরাতে নবীর সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।
- কুরআন শুনতে হলে মনোযোগ ও ভাবনার সঙ্গে শোনা উচিত।
