৪৪/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৪৫ - আল্লাহর অফুরন্ত দান ও রিজিক
সূরা আল –মায়িদা
আল্লাহর অফুরন্ত দান ও কখনো না-কমা রিজিকের ভান্ডার
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৪৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৪৫
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَمِينُ الرَّحْمَنِ مَلأَى سَحَّاءُ لاَ يَغِيضُهَا اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ قَالَ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضْ مَا فِي يَمِينِهِ وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ وَبِيَدِهِ الأُخْرَى الْمِيزَانُ يَرْفَعُ وَيَخْفِضُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهَذَا الْحَدِيثُ فِي تَفْسِيرِ هَذِهِ الآيَةِ : ﴾ وَقََالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنْفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ ﴿ وَهَذَا حَدِيثٌ قَدْ رَوَتْهُ الأَئِمَّةُ نُؤْمِنُ بِهِ كَمَا جَاءَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُفَسَّرَ أَوْ يُتَوَهَّمَ هَكَذَا قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الأَئِمَّةِ مِنْهُمُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَابْنُ الْمُبَارَكِ إِنَّهُ تُرْوَى هَذِهِ الأَشْيَاءُ وَيُؤْمَنُ بِهَا وَلاَ يُقَالُ كَيْفَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দয়াময় আল্লাহ তা’আলা ডান হাত পূর্ণ। সর্বদা তা অনুগ্রহ ঢালছে। রাত দিনের অবিরাম দান তাতে কখনো কমতি ঘটাতে পারে না। তিনি আরো বলেন, তোমরা লক্ষ্য করেছ কি যেদিন থেকে তিনি আসমান-যামীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন হতে কত না দান করে আসছেন, অথচ তাঁর ডান হাতে যা আছে তাতে কিছুই কমতি হয়নি। (সৃষ্টির পূর্বে) তাঁর আরশ ছিল পানির উপর। তাঁর অপর হাতে রয়েছে মীযান (দাঁড়িপাল্লা)। তিনি তা নীচু করেন ও উত্তোলন করেন (সৃষ্টির রিযিক নির্ধারণ করেন)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।এ হাদীসটি হল নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যাস্বরূপ : “ইয়াহূদীরা বলে, আল্লাহ তা’আলার হাত রুদ্ধ। ওরাই আসলে রুদ্ধহস্ত এবং ওরা যা বলে তজ্জন্য ওরা অভিশপ্ত। বরং আল্লাহ তা’আলার উভয় হাতই প্রসারিত, যেভাবে ইচ্ছা তিনি দান করেন” – (সূরা আল –মায়িদাহ : ৬৪)।ইমামগণ বলেন, এ হাদীস যেরূপে (আমাদের নিকট) এসেছে, কোনরূপ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও সন্দেহ-সংশয় ব্যতীতই তার উপর সেভাবেই ঈমান আনতে হবে। একাধিক ইমাম এ কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবনু উয়াইনাহ, ইবনুল মুবারাক (রহঃ) প্রমুখ। তাদের মতে এরূপ বিষয় বর্ণনা করা যাবে, এগুলোর উপর ঈমান রাখতে হবে, কিন্তু তা কেমন এ কথা বলা যাবে না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৪৫-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এই হাদিসে আল্লাহর সীমাহীন দান ও অনুগ্রহের কথা বলেছেন। রাত-দিন অবিরাম দান করা হলেও তাঁর কাছে যা আছে, তা কমে না। আসমান ও জমিন সৃষ্টির পর থেকে তিনি সৃষ্টিজগতকে দিয়ে যাচ্ছেন, তবু তাঁর ভান্ডারে কোনো ঘাটতি হয়নি। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, তাঁর আরশ পানির উপর ছিল এবং তাঁর হাতে মিজান রয়েছে; তিনি তা নিচু করেন ও উপরে তোলেন। অর্থাৎ সৃষ্টির রিজিক ও অবস্থা তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। হাদিসে আল্লাহর গুণ যেভাবে এসেছে, সেভাবেই বিশ্বাস করা হয়; মানুষের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করা হয় না। মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর রিজিক ও দান সীমাবদ্ধ নয় এবং সব সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণ করলেও তাঁর সম্পদ কমে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর দান ও অনুগ্রহে কোনো ঘাটতি হয় না।
- আসমান-জমিন সৃষ্টির পর থেকে দান করেও তাঁর ভান্ডার কমেনি।
- সৃষ্টির রিজিক ও পরিমাপ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে।
