৪৪/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৫১ - মদ নিষিদ্ধ হওয়ার আগের সাহাবিদের অবস্থা
সূরা আল –মায়িদা
মদ হারামের আগের পানাহার নিয়ে সাহাবিদের উদ্বেগের উত্তর
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৫১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৫১
وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، أَيْضًا حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ بُنْدَارٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، بِهَذَا قَالَ قَالَ الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ مَاتَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَهُمْ يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ فَلَمَّا نَزَلَ تَحْرِيمُهَا قَالَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فَكَيْفَ بِأَصْحَابِنَا الَّذِينَ مَاتُوا وَهُمْ يَشْرَبُونَهَا فَنَزَلَتْْ : ﴾ لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ﴿ الآيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল –বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ) এর বেশ কিছু সাহাবী শরাব নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বে মদ্যপানে অভ্যস্ত অবস্থায় মারা যান। শরাব হারাম হওয়া সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হলে নবী (ﷺ) এর সাথীদের কেউ কেউ বলেন, আমাদের ঐসব সাথীদের কি হবে, যারা শরাব পানে অভ্যস্ত থাকাকালে মারা গেছেন!তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) : “যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে, সেজন্য তাদের কোন গুনাহ নেই…..” – (সূরা আল –মায়িদাহ ৯৩)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৫১-এর সারসংক্ষেপ
আল-বারা ইবনু আজিব (রাঃ) বলেন, মদ হারাম হওয়ার আগে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কয়েকজন সাহাবি মদ পান করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন। পরে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার আয়াত নাজিল হলে জীবিত সাহাবিরা তাদের সঙ্গীদের বিষয়ে চিন্তিত হন। তারা জানতে চান, নিষেধাজ্ঞা আসার আগে যারা ওই অবস্থায় মারা গেছেন, তাদের কী হবে। তখন সূরা আল-মায়িদার ৯৩ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ হয়। এতে ঈমান, নেক আমল ও তাকওয়ার সঙ্গে জীবনযাপনকারী লোকদের আগের পানাহারের জন্য গুনাহ না থাকার কথা বলা হয়। হাদিসটি অতীতের বৈধ অবস্থার সঙ্গে পরবর্তী নিষেধকে গুলিয়ে না ফেলার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে এটি বর্তমান সময়ে হারাম হয়ে যাওয়া কাজকে বৈধ বলার কোনো সুযোগ দেয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিষেধাজ্ঞা আসার আগের বৈধ অবস্থাকে পরের বিধান দিয়ে বিচার করা হয়নি।
- ঈমান, নেক আমল ও তাকওয়া আয়াতটির মূল শর্ত হিসেবে এসেছে।
- আল্লাহর বিধান আসার পর মুমিনের কাজ হলো তা মেনে নেওয়া।
