৪৪/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৫৫ - প্রতি বছর হজ ও অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন
সূরা আল –মায়িদা
হজ কি প্রতি বছর ফরজ এবং কেন অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন এড়াবেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৫৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৫৫
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ وَرْدَانَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ : ( وَلِِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً ﴿ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كُلِّ عَامٍ فَسَكَتَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كُلِّ عَامٍ قَالَ «لاَ وَلَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ» . فَأَنْزَلَ اللَّهُ : ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ ﴿ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ عَلِيٍّ .وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“লোকদের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার ক্ষমতা আছে, আল্লাহ্ তা’আলার উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য” (সূরাঃ আলে-ইমরান- ৯৭), এই আয়াত অবতীর্ণ হলে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! প্রতি বছর (কি হজ্জ করতে হবে)? তিনি নীরব থাকলেন। তাঁরা আবার বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! প্রতি বছর কি? তিনি বললেন, না। তবে আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তাই ওয়াজিব হত।তখন পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের জন্য প্রকাশ করা হলে তোমাদের মন্দ লাগবে” (সূরাঃ আল-মায়িদাহ- ১০১)।
আবূ ঈসা বলেনঃ আলী (রাঃ)-এর হাদীস হিসেবে এটি হাসান গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৫৫-এর সারসংক্ষেপ
হজের সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর কাবাঘরের হজ ফরজ হওয়ার আয়াত নাজিল হলে সাহাবিগণ জানতে চান, এটি কি প্রতি বছর করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে নীরব থাকেন। আবার প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না; তবে তিনি যদি হ্যাঁ বলতেন, তাহলে প্রতি বছর হজ করা ফরজ হয়ে যেত। এরপর এমন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন না করতে বলা আয়াত অবতীর্ণ হয়, যা প্রকাশ করা হলে প্রশ্নকারীদের জন্য কষ্টকর হতে পারে। হাদিসটি উপকারী প্রশ্ন বন্ধ করতে বলে না। এখানে এমন পুনরাবৃত্ত ও অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে, যার ফলে দায়িত্ব কঠিন হয়ে যেতে পারে। মূল শিক্ষা হলো, স্পষ্ট নির্দেশ মেনে চলা, নবীর নীরবতা ও জবাবের আদব রক্ষা করা এবং দ্বীনের মধ্যে অকারণে কঠোরতা না বাড়ানো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর হজ ফরজ, কিন্তু হাদিসে প্রতি বছর হজ ফরজ বলা হয়নি।
- অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্ত প্রশ্ন মানুষের জন্য বিধান কঠিন করতে পারে।
- দ্বীনি প্রশ্ন প্রয়োজন, উপকার ও সঠিক আদবের ভিত্তিতে করা উচিত।
